পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঘরমুখী মানুষের ঢলে পদ্মা সেতুতে যানবাহন পারাপার ও টোল আদায়ে সৃষ্টি হয়েছে নতুন রেকর্ড। গত ২৪ ঘণ্টায় সেতু দিয়ে ৪১ হাজার ৮৮৫টি যানবাহন পারাপারের মাধ্যমে মোট ৪ কোটি ৫৪ লাখ ৫ হাজার ২৫০ টাকা টোল আদায় করেছে কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে সেতু কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে বুধবার দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত এই রেকর্ডসংখ্যক যানবাহন চলাচল ও টোল আদায় হয়। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে সেতুর দুই প্রান্তে নেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি।
বিস্তারিত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মাওয়া প্রান্ত দিয়ে সর্বোচ্চ ২৮ হাজার ৩৯০টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, যেখানে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৬৬ লাখ ৯৫ হাজার ৫৫০ টাকা। অন্যদিকে জাজিরা প্রান্ত দিয়ে ১৩ হাজার ৪৯৫টি যানবাহন পার হয়েছে এবং সেখান থেকে আদায় হয়েছে ১ কোটি ৮৭ লাখ ৯ হাজার ৭০০ টাকা।
এক্সপ্রেসওয়েতে যানবাহনের চাপ থাকলেও হাইওয়ে পুলিশ ও সেতু কর্তৃপক্ষের সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা লেন এবং টোল প্লাজায় অতিরিক্ত বুথ চালু রাখায় যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে না।
মাওয়া ও জাজিরা উভয় প্রান্তেই যাত্রীদের ভিড় থাকলেও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনায় স্বস্তি বিরাজ করছে। দ্রুত টোল আদায়ের জন্য ডিজিটাল ও ম্যানুয়াল—উভয় পদ্ধতিই সক্রিয় রাখা হয়েছে।
পদ্মা সেতুর সাইড অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ জানান, সকাল থেকেই কোনো যানজট ছাড়াই সব ধরনের যানবাহন চলাচল করছে। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে টোল প্লাজা এলাকায় বিশেষ পর্যবেক্ষণ টিম কাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন পয়েন্টে টহল জোরদার করেছে।
সেতু চালুর পর এটি অন্যতম সর্বোচ্চ টোল আদায়ের ঘটনা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের ধারণা, ঈদের আগের দিনগুলোতে যানবাহনের চাপ আরও বাড়তে পারে। তবে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি থাকায় বড় ধরনের ভোগান্তির আশঙ্কা নেই বলেও আশ্বস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ।
ফেরিঘাটের ওপর চাপ কমিয়ে পদ্মা সেতু এখন দক্ষিণাঞ্চলের যাতায়াতের প্রধান লাইফলাইন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। টোল আদায়ের এই রেকর্ড অংক দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির ইতিবাচক ইঙ্গিত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

