রবিবার

৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেই পরিবেশ ছাড়পত্র, তবু ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় চলছে টায়ার পোড়ানোর কারখানা

🕙 প্রকাশিত : ৩ মে, ২০২৬ । ১২:৩৮ অপরাহ্ণ

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো ছাড়পত্র ছাড়াই ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় টায়ার পোড়ানোর একটি কারখানা দীর্ঘদিন ধরে চলছে। এতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের ধল্লা মধ্যপাড়া এলাকায় ‘গ্রীন এনার্জি ইন্ডাস্ট্রিজ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান পুরোনো টায়ার পুড়িয়ে তেল উৎপাদন করছে। কারখানায় উৎপাদিত তেল ‘কিং ওয়েল’ নামে বাজারজাত করা হয়। প্রতিষ্ঠানটিতে প্রতিদিন শত শত কেজি পরিত্যক্ত টায়ার পোড়ানো হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কারখানার ভেতরে বড় বড় ২ টি চুল্লিতে টায়ার পোড়ানো হচ্ছে। চিমনি দিয়ে ঘন কালো ধোঁয়া বের হয়ে আশপাশের পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। বাতাসে তীব্র দুর্গন্ধ বিরাজ করছে। প্রতিদিন রাত ৯টা থেকে ভোররাত পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, টায়ার পোড়াতে কাঠ ব্যবহার করা হয়। এতে অতিরিক্ত ধোঁয়া ও তাপ তৈরি হয়। এই ধোঁয়া আশপাশের ফসলি জমি, গাছপালা ও বসতবাড়ির ওপর পড়ছে। ফলে গাছের পাতা শুকিয়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেতেই ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। জমির উর্বরতাও কমে যাচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতা এবং কিছু সাংবাদিকরা আর্থিক সুবিধা নিয়ে থাকেন।

স্থানীয় হাজী হাবিবুর রহমান বলেন, “প্রতিদিন রাত ৯টার পর পুরো এলাকা ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। ঘুমানো যায় না। শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, দীর্ঘমেয়াদি কাশি, চোখ জ্বালাপোড়া, মাথাব্যথা ও ত্বকের সমস্যা বেড়ে গেছে। অনেকেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হচ্ছেন। কেউ কেউ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র বসবাসের চিন্তা করছেন।”

ধল্লা মধ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা আওলাদ হোসেন বলেন, “এই কারখানার কারণে আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। ছোট ছোট বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। আমরা আতঙ্কে আছি।”

কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, “আমাদের জমির ফসল আগের মতো হচ্ছে না। ধোঁয়ার কারণে গাছপালা নষ্ট হচ্ছে। পুড়ে যাচ্ছে ফসলের জমি। এতে আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।”

আবু সায়েম নামে এক পরিবেশবাদী বলেন, কারখানাটির কোনো পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই। নেই নির্দিষ্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। উৎপাদনের সময় নির্গত বিষাক্ত গ্যাস ও বর্জ্য সরাসরি পরিবেশে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে পরিবেশ দূষণ দিন দিন বাড়ছে।

দৈনিক টেলিকম

প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার মো. তানজিল বলেন, “উত্তরবঙ্গের মোজাফফর হোসেন প্রায় এক বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছেন। প্রতিষ্ঠানটির ট্রেড লাইসেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের কাগজপত্র আছে। তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো ছাড়পত্র এখনো নেওয়া হয়নি।”

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুন্নাহার পপি বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় পরিবেশের ছাড়পত্র ছাড়া এ ধরনের কারখানা চলতে পারে না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ