বুধবার

২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বন্ধ বিমানবন্দর পুনরুজ্জীবনে উদ্যোগ, সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু

🕙 প্রকাশিত : ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ । ১:৫৮ অপরাহ্ণ

দেশের বিভিন্ন জেলায় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ বা কম ব্যবহৃত অবস্থায় থাকা বিমানবন্দরগুলো পুনরায় চালুর সম্ভাবনা যাচাইয়ে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে বিস্তারিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) পরিচালনার কাজ শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এসএম জাহাঙ্গীর হোসেনের টেবিলে উত্থাপিত তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ আকাশপথে সংযোগ জোরদার এবং আঞ্চলিক উন্নয়নে ভারসাম্য আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর, নেভিগেশন সুবিধা, বিমান বাহিনীর ব্যবহৃত ঘাঁটি এবং স্বল্প দূরত্বে উড্ডয়ন-অবতরণ সুবিধাসহ মোট ১৭টি বিমানবন্দর রয়েছে। এর মধ্যে হযরত শাহজালাল (ঢাকা), শাহ আমানত (চট্টগ্রাম) ও ওসমানী (সিলেট) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় ফ্লাইট পরিচালনা করে। এছাড়া সৈয়দপুর, শাহ মখদুম (রাজশাহী), যশোর, বরিশাল ও কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চলাচল করে।

তিনি আরও জানান, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নির্মিত ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, ঈশ্বরদী, শমশেরনগর, কুমিল্লা ও পটুয়াখালী—এই ছয়টি এসটিওএল বিমানবন্দর বর্তমানে বন্ধ বা কম ব্যবহৃত রয়েছে। কুমিল্লা বিমানবন্দর বাণিজ্যিক ফ্লাইট না চালালেও বিদেশি উড়োজাহাজের নেভিগেশন সেবা দিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে তেজগাঁও বিমানবন্দর বর্তমানে যাত্রীসেবা প্রদান করে না এবং এটি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনি ইশতেহারের আলোকে ছোট বিমানবন্দর ও এয়ারস্ট্রিপ উন্নয়নের মাধ্যমে বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোকে ধাপে ধাপে আকাশপথে যুক্ত করে একটি জাতীয় নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি জানান, স্থানীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বন্ধ বিমানবন্দরগুলো পুনরায় চালুর সম্ভাবনা যাচাই শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বগুড়া বিমানবন্দর স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়কে (বুয়েট)।

মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাবে এবং আঞ্চলিক উন্নয়নে নতুন গতি আসবে।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ