মানিকগঞ্জ পৌরসভার বকজুরি এলাকায় সড়ক নির্মাণের জন্য প্রায় দুই বছর আগে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ হয়নি। বর্ষায় খোঁড়া সড়কে পানি ও কাদা জমে চলাচল আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে বকজুরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ে যাওয়ার প্রধান সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় অনেক শিশুকে পুকুরের পাড় ঘেঁষে চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সড়কটি বকজুরি, মালঞ্চসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকার মানুষের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। প্রায় দুই বছর আগে নির্মাণকাজের জন্য সড়কটি খুঁড়ে ফেলা হয়। কিন্তু কাজ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় বর্তমানে কোথাও সরু, কোথাও কাদাযুক্ত হয়ে পড়েছে সড়কটি। বৃষ্টির সময় বিভিন্ন স্থানে পানি জমে যায়। এতে শিক্ষার্থীদের পিছলে পড়ে আহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
একাধিক অভিভাবক বলেন, শিশুদের বিদ্যালয়ে পাঠানোর সময় তাঁরা দুশ্চিন্তায় থাকেন। বৃষ্টির দিনে রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ থাকে যে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যেতে চায় না। এতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে যাচ্ছে বলে তাঁদের অভিযোগ।
বকজুরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক জানান, বৃষ্টির সময় সড়কটি দিয়ে শিক্ষার্থীদের চলাচল করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। শিশুরা কাদা-পানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে আসে। অনেক সময় তাদের পোশাক ও বই-খাতা নষ্ট হয়ে যায়। শিক্ষক ও অভিভাবকদেরও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

বকজুরি এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ‘এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন অনেক মানুষ চলাচল করেন। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে স্কুলের ছোট ছোট শিশুরা। সব বাচ্চারাতো সাঁতার জানেনা একবার পা পিছলে পুকুরে পড়ে গেলে শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে। দ্রুত কাজ শেষ না করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
মানিকগঞ্জ পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়ক নির্মাণ প্রকল্পটির কাজ পেয়েছে কামরুল অ্যান্ড ব্রাদার্স। প্রকল্পের প্রায় ৩৪ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তবে মূল ঠিকাদার বর্তমানে অনুপস্থিত থাকায় কাজ বন্ধ রয়েছে। তাঁর প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৌর কর্তৃপক্ষের যোগাযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পৌরসভা।
পৌর কর্তৃপক্ষের দাবি, ঠিকাদারের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে কাজ শুরু করে শেষ করার জন্য একাধিকবার বলা হয়েছে। এরপরও কাজ শুরু না করায় সাত দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এখন কাজ শুরু করলে গুরুত্বের সঙ্গে শেষ করতে হবে। অন্যথায় কাজ বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবী
উন্নয়নকাজের জন্য সড়ক খুঁড়ে রাখা হলেও দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। তাঁদের দাবি, দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করতে হবে। আর কাজ শেষ হতে সময় লাগলে অন্তত সাময়িকভাবে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করে দেওয়া হোক, যাতে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা যায়।

