পন্টুন বিচ্ছিন্ন হওয়ায় রাঙ্গাবালীর নৌঘাটে চরম দুর্ভোগ, ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন যাত্রীরা

🕙 প্রকাশিত : ২৪ জুলাই, ২০২৬ । ১০:২৬ এএম

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার জেলা শহরের সঙ্গে নদীপথে প্রধান যোগাযোগের মাধ্যম কোড়ালিয়া লঞ্চঘাটের জেটি থেকে পন্টুন বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো যাত্রী। বিকল্প ব্যবস্থায় নৌযানে ওঠানামা করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকির মুখে পড়ছেন তারা। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছেন নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১০ জুন রাতে আগুনমুখা নদীর প্রবল স্রোতে জেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পন্টুনটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) পন্টুনটি উদ্ধার করে ঘাটের পাশে বেঁধে রাখলেও যাত্রীদের নিরাপদ ওঠানামার কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি।

ঘাটের ইজারার অংশীদার বশির প্যাদা জানান, জেটিটি আগে থেকেই দুর্বল ছিল। নদীর তলদেশের মাটি সরে যাওয়ায় পন্টুন ধরে রাখার খুঁটিগুলো হেলে পড়ে এবং জোয়ারের চাপে জেটি তলিয়ে গিয়ে পন্টুনটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রতিদিন এই ঘাট দিয়ে ঢাকাগামী লঞ্চ, স্থানীয় নৌরুটের যাত্রীবাহী নৌযান এবং মালবাহী ট্রলার চলাচল করলেও প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

ট্রলার মালিক হাসান বলেন, পন্টুনের সঙ্গে জেটির সংযোগ না থাকায় যাত্রীদের ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে ওঠানামা করতে হচ্ছে। ব্যবসায়ী মো. মেহেদী জানান, পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত ব্যয় ও দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন তিনি।

রাঙ্গাবালী সদর ইউনিয়নের বাহেরচর বাজারের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আজাদ বলেন, প্রতি সপ্তাহে দুই দিন ঢাকা থেকে লঞ্চযোগে ব্যবসায়িক পণ্য কোড়ালিয়া লঞ্চঘাটে আসে। পন্টুন বিচ্ছিন্ন থাকায় পণ্য পরিবহনে দ্বিগুণ খরচ ও অতিরিক্ত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. খায়রুল হাসান জানান, দ্রুত পন্টুন পুনঃস্থাপনের জন্য বিআইডব্লিউটিএকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। তবে সংস্থাটি কারিগরি জটিলতার কথা জানিয়েছে।

পটুয়াখালী নৌবন্দরের উপপরিচালক জাকি শাহারিয়ার বলেন, ভাঙনপ্রবণ এলাকা হওয়ায় উপযুক্ত স্থানে পন্টুন স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যকেও অবহিত করা হয়েছে।

বরিশাল বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী আমজাদ হোসেন জানান, নতুন অর্থবছরে দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগের পর কাজ শুরু হবে। পুরো কাজ শেষ হতে প্রায় দুই মাস সময় লাগতে পারে।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ