মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় চাঁদা না দেওয়ায় এক মৎস্যজীবীকে মারধর এবং রাতের আঁধারে মাছ ধরার জাল চুরি করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একদল সংঘবদ্ধ যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়েরের চার দিন পার হলেও এখনো কোনো প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তারা।
ভুক্তভোগী মৎস্যজীবী মহাদেব হালদার (৪৫) সাটুরিয়া উপজেলার তিল্লি এলাকার বাসিন্দা। তিনি জানান, চলতি বছরে প্রায় দুই লাখ টাকা দিয়ে পাঁচজন জেলে দুই বছরের জন্য ধলেশ্বরী নদীতে একটি মাছের ঘের ইজারা নেন। সম্প্রতি ওই ঘেরে মাছ ধরতে গেলে স্থানীয় মুসা মিয়া, এছাক, শাজাহান সরকার, সুমন ও আমিনুল তাদের বাঁধা দেন। একপর্যায়ে তারা ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মহাদেব হালদারের বাড়িতে গিয়ে তাকে মারধর করা হয়। একই সঙ্গে চাঁদার টাকা না দিলে নৌকা ও মাছ ধরার জাল পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পর ৬ জুলাই রাতের আঁধারে নৌকা থেকে মাছ ধরার জাল চুরি হয়ে যায়। পরে আশপাশে খোঁজাখুঁজি এবং সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, চাঁদা দাবির ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরাই জাল নিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়ভাবে বিচার চেয়ে কোনো সমাধান না পেয়ে শেষ পর্যন্ত থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগকারী জয় হালদার বলেন, চুরি হওয়া মাছ ধরার জালটির মূল্য প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টাকা। পাঁচজন মিলে ঋণ করে জালটি তৈরি করেছিলেন, কিন্তু সেই ঋণের কিস্তিও এখনো পরিশোধ হয়নি। জাল না থাকায় তারা মাছের ঘেরে যেতে পারছেন না। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও আর্থিক সংকটে দিন কাটছে তাদের।
ভুক্তভোগী জেলেদের দাবি, দ্রুত জাল উদ্ধার, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিরাপদে মাছ ধরার পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক। যাতে তারা আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মুসা মিয়া বলেন, নদীতে মাছের ঘের নিয়ে নদীর দুপাড়ের বাসিন্দাদের মাঝে বিরোধ রয়েছে। ঘেরের টাকা ওপারের মসজিদ কমিটি একাই নেয়। এপারেও মসজিদ রয়েছে। আমরা চাই- ঘেরের টাকা দুই মসজিদেরই উন্নয়ন কাজে ব্যয় হোক। এজন্যই মাঝিদের বলা হয়েছিল ঝামেলা পর্যন্ত মাছ না ধরতে। তবুও তারা চলমান এই ঝামেলার মাঝে মাছ ধরছিল তাই তাদের জাল নিয়ে আসা হয়েছে। বিষয়টি সামাজিকভাবে সমাধান হলে জাল ফেরত দেওয়া হবে। তবে মারধরের ঘটনাটি অস্বীকার করেন তিনি।
সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন বলেন, অভিযোগের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে। জেলেদের জাল দ্রুত উদ্ধারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

