বৃহস্পতিবার

১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেল মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ‘হাজারি গুড়’

🕙 প্রকাশিত : ১৭ জুন, ২০২৬ । ১২:৪০ অপরাহ্ণ

ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) সনদ অর্জন করেছে মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ‘হাজারি গুড়’। জেলার হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা অঞ্চলে উৎপাদিত এ গুড় দীর্ঘদিন ধরে তার বিশেষ স্বাদ, সুগন্ধ ও ঐতিহ্যবাহী উৎপাদন পদ্ধতির কারণে দেশজুড়ে পরিচিতি লাভ করেছে। প্রায় দুই শতকের পুরোনো এই ঐতিহ্যবাহী পণ্য এখন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেল।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা।

তিনি বলেন, জিআই সনদ পাওয়ার ফলে ‘মানিকগঞ্জের হাজারি গুড়’-এর স্বকীয়তা আন্তর্জাতিকভাবে সুরক্ষিত হয়েছে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে বিদেশে রপ্তানির নতুন সুযোগ তৈরি হবে এবং জেলার ঐতিহ্যবাহী এ পণ্যের ব্র্যান্ডমূল্য আরও বাড়বে।

এর আগে সোমবার শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্ক অধিদপ্তর (ডিপিডিটি) এ গুড়ের জিআই নিবন্ধন সনদ ইস্যু করে। ডিপিডিটির মহাপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন স্বাক্ষরিত জিআই (আর) ফরম-১ এর মাধ্যমে এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়। নিবন্ধন সনদ অনুযায়ী, ‘মানিকগঞ্জের হাজারি গুড়’ জেলা প্রশাসক, মানিকগঞ্জের নামে ৩০ শ্রেণিতে জিআই-৬২ নম্বরে নিবন্ধিত হয়েছে।

হাজারি গুড় প্রস্তুতকারী পরিবারের সদস্য শামিম হাজারী জানান, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন জেলা প্রশাসক রেহেনা আক্তার জিআই সনদের জন্য আবেদন করেন। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসক মনোয়ার হোসেন মোল্লা এবং বর্তমান জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানাও এ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় ঝিটকার হাজারি গুড় দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও পরিচিতি লাভ করে। জনশ্রুতি রয়েছে, ইংল্যান্ডের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথও এ গুড়ের স্বাদ গ্রহণ করে প্রশংসা করেছিলেন। যদিও এ বিষয়ে কোনো লিখিত প্রমাণ নেই, তবে গল্পটি এখনো স্থানীয়দের মুখে মুখে প্রচলিত।

হরিরামপুরের ঝিটকা এলাকার গুড় প্রস্তুতকারী রহিজ উদ্দিন ও মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, জিআই সনদ পাওয়ার ফলে হাজারি গুড়ের সুনাম ও গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে। একইসঙ্গে নকল পণ্যের বিস্তার রোধ করা সহজ হবে এবং প্রকৃত উৎপাদকরা ন্যায্য মূল্য পাবেন। বিদেশে রপ্তানির ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতার উদ্যোগে জিআই নিবন্ধনের কার্যক্রম আরও গতি পায়। জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও আবেদন প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করে।

উল্লেখ্য, হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা অঞ্চলে বহু বছর ধরে খেজুরের রস থেকে বিশেষ কৌশলে তৈরি করা হয় ‘হাজারি গুড়’। অনন্য স্বাদ, মনমাতানো সুগন্ধ ও ঐতিহ্যবাহী প্রস্তুত প্রণালীর কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ গুড়ের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ