শুক্রবার

১২ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানিকগঞ্জে শিক্ষক ও সাংবাদিককে কুপিয়ে জখম, ধরাছোঁয়ার বাইরে আসামি

🕙 প্রকাশিত : ১১ জুন, ২০২৬ । ১০:১৫ পূর্বাহ্ণ

মানিকগঞ্জের ঘিওরে জমির বিরোধের জেরে এক স্কুল শিক্ষক ও এক সাংবাদিকের ওপর অতর্কিত ও নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে। প্রতিবেশীর ধারালো চাকুর আঘাত ও তারকাটাযুক্ত লাঠির পিটুনিতে দুই ভাই গুরুতর জখম হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। হামলার সময় ভুক্তভোগীর গলা থেকে একটি স্বর্ণের চেইন লুটেরও অভিযোগ উঠেছে।

গত শনিবার (৩০ মে) বেলা ৩টার দিকে উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে এই বর্বর ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগীদের বোন শিখা রানী পাল বাদী হয়ে ঘিওর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন। তবে ঘটনার বেশ কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও ও থানায় নিয়মিত মামলা হওয়ার পরও প্রধান আসামিসহ কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ভুক্তভোগী পরিবার।

হামলায় গুরুতর আহতরা হলেন— বাহাদুরপুর গ্রামের পরিতোষ কুমার পালের ছেলে পংকজ কুমার পাল (৪২) ও পিযুষ পাল (৩৫)। তাদের মধ্যে পংকজ পাল তরা রমজান আলী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পিযুষ পাল জাতীয় দৈনিক ‘ঢাকা ডাক’ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন— প্রতিবেশী মৃত শ্যামল কুমার পালের ছেলে চঞ্চল কুমার পাল (৩০), তার মা সরস্বতী রানী পাল (৫০) এবং অজ্ঞাতনামা আরও চারজন জন। স্থানীয়দের অভিযোগ, মূল অভিযুক্ত চঞ্চলের বিরুদ্ধে এলাকায় মাদক ব্যবসা ও নারী লাঞ্ছনার মতো নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে।

থানায় দেওয়া লিখিত এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন বিকেলে ভুক্তভোগীরা নিজেদের বসতবাড়ির আঙিনায় জঙ্গল ও আগাছা পরিষ্কার করছিলেন। এ সময় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে চঞ্চল কুমার পাল ও তার মা সরস্বতী রানী পাল অজ্ঞাতনামা আরও চারজনকে সঙ্গে নিয়ে বেআইনিভাবে লাঠিসোটা ও ধারালো চাকু নিয়ে তাদের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে। তারা অকারণে সাংবাদিক পিযুষ পালের সঙ্গে ঝগড়া ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। গালিগালাজ করতে নিষেধ করায় প্রধান আসামি চঞ্চল ক্ষিপ্ত হয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে তার হাতে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে পিযুষ পালের মাথার বাম পাশে, ঘাড়ের বাম পাশে ও গলায় এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এতে তিনি রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম হন।

একই সময়ে দ্বিতীয় আসামি সরস্বতী রানী পাল তার হাতে থাকা একটি ‘বড় তারকাটা যুক্ত কাঠের লাঠি’ দিয়ে পিযুষ পালের পিঠের বিভিন্ন অংশে নির্মমভাবে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেন। পিযুষের চিৎকার শুনে তার বড় ভাই শিক্ষক পংকজ কুমার পাল তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে চঞ্চল পাল তার বুকেও চাকু দিয়ে সজোরে কোপ মারে। চাকুর আঘাতে দুই ভাই মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আসামিরা তাদের লাথি ও কিলঘুষি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, মারামারির সুযোগে মূল অভিযুক্ত চঞ্চল পাল সাংবাদিক পিযুষ পালের গলা থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়। পরে প্রতিবেশীরা ও গ্রামবাসীরা চিৎকার শুনে ছুটে এলে আসামিরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয়রা দুই ভাইকে উদ্ধার করে ঘিওর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক পিযুষের মাথা, হাত ও ঘাড়ে এবং পংকজের বুকে একাধিক সেলাই দিয়েছেন। ঘটনার পর থেকে মূল অভিযুক্ত চঞ্চল পালের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

আহতদের পরিবার ও গ্রামবাসীরা জানান, বাহাদুরপুর মৌজার জমির মালিকানা নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। সম্প্রতি আদালত থেকে পরিতোষ পালের (আহতদের বাবা) পক্ষে রায় আসে। তারা জমিটি ভোগদখল করে আসছিলেন। আদালতের এই রায়ের জেরে ক্ষিপ্ত হয়েই চঞ্চল এই পরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে।

এদিকে ঘটনার পর দীর্ঘদিন পার হলেও আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারকে অনবরত প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আহত দুই ভাই এখনো হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। এজাহার দায়েরের পরও আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও এলাকাবাসী। তারা দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ঘিওর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) চিন্ময় মণ্ডল জানান, আসামিরা ঘটনার পর থেকে এখনো গ্রামে প্রবেশ করেননি। তাদের অবস্থান শনাক্ত করার জন্য প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে একজন আসামির মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং করা হয়েছে। তবে বর্তমানে সেটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, আসামিদের শনাক্ত ও দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ কার্যক্রম ও অভিযান চলমান রয়েছে। খুব দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ফলোআপ নিউজ

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ