ঐক্যবদ্ধ বিএনপি গড়ার লক্ষ্যে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কমিটিতে ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন নেতারা। নতুন কমিটিতে ত্যাগীদের অবমূল্যায়ন বা ‘হাইব্রিড’ নেতাদের স্থান দেওয়া হলে তা বয়কটের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।
শনিবার (২৩ মে) দুপুরে মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত’র চারিগ্রামস্থ বাসভবন চত্বরে সিংগাইর উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি গঠন উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন নেতাকর্মীরা।
সভায় দলের ত্যাগী, যোগ্য, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়, নির্বাচনে ভূমিকা রাখা এবং ক্লিন ইমেজের নেতাদের সমন্বয়ে কমিটি গঠনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা: মো: শফিউদ্দীনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো: আলাউদ্দিন, খান মো: হাবিবুল আলম মোহাম্মদ আলী, আমজাদ হোসেন, আব্দুল মান্নান, আব্দুল গফুর, সদর ইউনিয়ন বিএনপির চেয়ারম্যান দেওয়ান জাহিনুর রহমান সৌরভ, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মিলন, সাংগঠিনক ছানোয়ার হোসেন, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তোফাজ্জল হোসেন ও বাবুল হোসেন।
উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো: সালাহ উদ্দিন ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সফিকুল ইসলাম সফিকের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, বায়রা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন, সাবেক পৌর কাউন্সিলর আকরাম হোসেন, মহিলা দল নেত্রী লাইলী বেগম, পৌর কৃষকদলের সভাপতি মজিবুর রহমান, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু, মৎস্যজীবি দলের সাধারণ সম্পাদক দীন ইসলাম, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক কাজী আনোয়ার, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওমর ফারুক মুন্না, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আবুল কাশেম, সদস্য সচিব মাহমুদুর রহমান গোলাপ ও পৌর যুবদলের সদস্য সচিব সফিকুল ইসলাম জীবন।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন উপজেলার ১১ টি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ।
বক্তারা বলেন, যে কোনো কমিটিতে অতীতে আন্দোলন-সংগ্রামে দলের নিবেদিতপ্রাণ, কারা নির্যাতিত ও রাজপথের পরীক্ষিত ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করা সংগঠনের অস্তিত্ব ও অগ্রগতির মূল চাবিকাঠি। গত ১৭ বছর ফেসিস্ট আওয়ামী দু:শাসনের সময়ে আন্দলোন সংগ্রামে সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত ছিলেন আপসহীন যোদ্ধা। সরকার বিরোধী রাজপথের প্রতিটি আন্দোলনে সম্মুখভাগে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি সব সময় মামলা-হামলার শিকার নির্যাতিত দলের নেতাকর্মীদের সাহস যুগিয়েছেন ও পাশে থেকে সাহায্য সহযোগিতা করেছেন।
তারা আরও বলেন, আগামীতে দলের যে কোনো কমিটি এমপি শান্ত’র মতামতের ভিত্তিতে করতে হবে। তার মতামত ছাড়া ত্যাগীদের বাদ দিয়ে বিতর্কিত, চাঁদাবাজ, নিষ্ক্রিয় ও আওয়ামী দোসরদের দিয়ে পকেট কমিটি ঘোষণা করা হলে তা যে কোনো মুল্যে প্রতিহত করা হবে। তাঁকে উপেক্ষা করে কোনো কমিটি করা হলে দল ও এলাকার উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। সৎ ও যোগ্য, আন্দোলন-সংগ্রাম এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিজয়ে ভূমিকা রেখেছেন এমন ক্লীন ইমেজের ত্যাগী নেতার্মীদের সমন্বয়ে গণতান্ত্রিক উপায়ে কমিটি গঠন করার আহ্বান জানান তাঁরা।
এসময় উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক বাহাউদ্দীন, কৃষকদলের সভাপতি মনিরুল হোসেন মোকা, পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আল-মামুন, উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, সাবেক পৌর কাউন্সিলর নুর আলম বাবুল, বায়রা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম হোসেন ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো: রুবেল হোসেনসহ উপজেলা, পৌর এবং ইউনিয়ন বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য: গত ১৫ মে মানিকগঞ্জ জেলার অধীন বিএনপির সাতটি উপজেলা ও দুটি পৌর শাখার কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। উপজেলাগুলো হলো সদর, সাটুরিয়া, সিংগাইর, হরিরামপুর, শিবালয়, দৌলতপুর ও ঘিওর। এ ছাড়া রয়েছে মানিকগঞ্জ পৌর ও সিঙ্গাইর পৌর শাখা। বিলুপ্ত কমিটিগুলো ২০২১ সালে বা তারও আগে গঠিত হয়েছিল। ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সাত সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে দলের কেন্দ্রীয় কমিটি। প্রায় চার মাস পর জেলা বিএনপির আংশিক আহ্বায়ক কমিটিকে বর্ধিত করে ৬১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। নতুন কমিটি গঠনের পর এটিই প্রথম বড় সাংগঠনিক পদক্ষেপ।

