রবিবার

১৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রয়াত নেতা আব্দুর কাদেরের কবর জিয়ারতে এমপি জিন্নাহ কবির

🕙 প্রকাশিত : ১৭ মে, ২০২৬ । ৬:০৭ পূর্বাহ্ণ

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আলহাজ আব্দুর কাদেরের কবর জিয়ারত করেছেন মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবির। এ সময় তিনি নেতা-কর্মীদের মরহুমের আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানান এবং মাদক, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

শনিবার (১৬ মে) বিকেলে তেওতা গ্রামের মরহুমের বাড়িতে গিয়ে এমপি জিন্নাহ কবির কবর জিয়ারত, দোয়া এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন। পরে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন তিনি।

এ সময় তিনি বলেন, “কাদের চেয়ারম্যান আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী ছিলেন। তিনি অত্যন্ত সহজ-সরল জীবনযাপন করতেন। কখনো নেশা, জুয়া কিংবা কোনো খারাপ কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। আমি চাই, আমাদের নেতা-কর্মীরা তার জীবনাদর্শ অনুসরণ করুক এবং কোনো ধরনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে না জড়াক।”

তিনি আরও বলেন, “মাদকের সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে দলীয় পরিচয়ে তাকে রক্ষা করা হবে না। চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব কিংবা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পরে এমপি জিন্নাহ কবির মরহুমের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এবং ভবিষ্যতে যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার আশ্বাস প্রদান করেন।

মরহুম আব্দুর কাদেরের বড় ভাই ও তেওতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক জানান, আব্দুর কাদের দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। তিনি শিবালয় উপজেলা যুবদলের সহ-সভাপতি, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি বলেন, ২০১৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত তেওতা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আব্দুর কাদের। চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আস্থা ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, হৃদরোগ, লিভার, কিডনি ও ডায়াবেটিসজনিত জটিলতায় অসুস্থ হয়ে কয়েকদিন আগে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি হন আব্দুর কাদের। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার ভোরে তার মৃত্যু হয়। পরে সকাল ১১টায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় হাজারো মানুষ অংশ নিলেও জরুরি কাজে ঢাকায় থাকায় এমপি জিন্নাহ কবির উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে পরদিন তিনি কবর জিয়ারত ও পরিবারের খোঁজখবর নিতে যান।

কবর জিয়ারতের সময় উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দীপু, শিবালয় উপজেলা বিএনপির সদ্য সাবেক সভাপতি রহমত আলী লাভলু, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান লিটন, সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিনসহ জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের শতাধিক নেতাকর্মী।

পরে পাশ্ববর্তী জাফরগঞ্জ এলাকায় শিবালয় উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী জিন্নার কবরও জিয়ারত করেন এমপি জিন্নাহ কবির ও দলীয় নেতাকর্মীরা।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ