সোমবার

১৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩রা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মন্ত্রিসভার আকার হতে পারে ৩৭ জনের, প্রাধান্য পাবেন প্রবীণ-নবীন, স্বচ্ছ ও দক্ষ নেতারা

🕙 প্রকাশিত : ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ৬:৩৬ পূর্বাহ্ণ

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর এখন সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া নতুন এই মন্ত্রিসভার চেহারা কেমন হতে যাচ্ছে এবং সেখানে কারা জায়গা পেতে যাচ্ছেন, সেটি নিয়ে মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
নতুন মন্ত্রিসভায় দলের তরুণ নেতারা কতটা স্থান পাচ্ছেন এবং সমমনা দলগুলোকে রাখা হচ্ছে কি-না, এসব প্রশ্ন ঘিরেও বিভিন্ন মহলে নানান আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা হতে দেখা যাচ্ছে। এমনকি মন্ত্রিসভায় রাখার জন্য বিজয়ীদের কারো কারো পক্ষে ফেসবুকসহ সামাজিক মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চালানোর ঘটনাও চোখে পড়ছে। যদিও বিএনপি’র পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত নতুন মন্ত্রিসভার আকার ও চেহারার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
তবে তারেক রহমানের প্রথম মন্ত্রিসভা বা সরকারের আকার ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সরকারের তুলনায় ‘অনেকটাই ছোট’ হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। এক্ষেত্রে গঠন ও আকৃতিতে পরিবর্তন এনে মন্ত্রণালয়ের সংখ্যাও কমিয়ে ত্রিশের নিচে নামিয়ে আনার চিন্তা করছে বিএনপি। মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা কমিয়ে আনার ফলে একদিকে সরকারের ‘কাজ যেমন সহজ হবে’, তেমনি ‘স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতা’ও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করে দলটি।
বিএনপি’র নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হচ্ছে নবীন ও প্রবীণের মিশেলে। নিজ দলের বাইরে ভোটে জয় পাওয়া সমমনা অন্য দলগুলোর নেতাদের মধ্যেও অনেকে সেই মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে যাচ্ছেন বলে আভাস দিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। এছাড়া নতুন মন্ত্রিসভায় নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।
এবারের নির্বাচনে বিভিন্ন আসন থেকে যারা জয় পেয়েছেন, তাদেরকে আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণ করানোর কথা রয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ওইদিন সকাল ১০টায় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন বলে অর্ন্তবর্তী সরকারের একাধিক সূত্রে নিশ্চিত করেছে। এরপর একইদিন বিকেলে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান হবে। নিয়ম অনুযায়ী, বর্তমান রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন মন্ত্রিসভার শপথ পড়াবেন।
বিএনপি সূত্র বলছে, বর্তমানে বাংলাদেশের সরকার কাঠামোতে ৪৩টি মন্ত্রণালয় রয়েছে, সেটির সংখ্যা কমিয়ে ত্রিশের নিচে নামিয়ে আনার কথা ভাবছেন তিনি। এক্ষেত্রে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের দেড় দশকের শাসনামলে যেসব মন্ত্রণালয়কে ভেঙে আলাদা করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা কমানোর চিন্তা করা হচ্ছে। এছাড়া একই খাত নিয়ে কাজ করছে, এমন কিছু মন্ত্রণালয়কে একটি ছাতার নিয়ে আসার বিষয়টিও ভেবে দেখছে বিএনপি। শেষপর্যন্ত সেটি বাস্তবায়ন করা হলে সড়ক পরিবহন ও রেল একই মন্ত্রণালয়ের আওতায় চলে আসতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।
দলের গুরুত্বপূর্ণ সূত্রগুলো আরও বলছে, নতুন মন্ত্রিসভার আকার ৩৫ থেকে ৩৭ সদস্যের হতে পারে। এর মধ্যে ২৬–২৭ জন পূর্ণ মন্ত্রী হতে পারেন। প্রতিমন্ত্রী করা হতে পারে ৯ থেকে ১০ জনকে। শেষ মুহূর্তে আরও এক বা দুজন যোগ হতে পারেন। এর আগে ২০০১ সালে বিএনপির মন্ত্রিসভা ছিল ৬০ সদস্যের। এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তখন ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। বিগত সময়ের অভিজ্ঞতা থেকে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবার মন্ত্রিসভা ছোট রাখার চিন্তা করছেন।
ডাক পাচ্ছেন কারা?
এবারের মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ প্রবীন নেতাদের পাশাপাশি মেধাবী তরুণদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা। এর মধ্যে তুলনামূলক কম বিতর্কিত ও অতীতে সফলভাবে মন্ত্রণালয় চালিয়েছেন- এমন অভিজ্ঞ নেতারা গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, অভিজ্ঞতা নেই, কিন্তু মেধাবী- এ রকম তরুণ নেতারা পাচ্ছেন উপমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব।
বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মধ্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ, মির্জা আব্বাস, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ওসমান ফারুক, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুসহ আরও বেশ কয়েক জনের নাম আলোচনায় রয়েছে।
নারীদের মধ্যে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদের নামও আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে মিজ ওবায়েদ এবারের নির্বাচনে ফরিদপুর-২ আসন থেকে জয় পেয়েছেন।
এছাড়া তরুণ নেতাদের মধ্যে প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী হিসেবে যারা মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন, তাদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন: লক্ষ্মীপুর সদর আসন থেকে বিজয়ী বিএনপি নেতা শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, টাঙ্গাইল-৫ থেকে নির্বাচিত সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং ঢাকা-৬ আসনে জয়লাভ করা ইশরাক হোসেন।
এবারের নির্বাচনে মিত্র দলের সাতজন নেতা নিজ দল ছেড়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন। তাদের মধ্যে ঢাকা-১৩ আসন থেকে ববি হাজ্জাজ এবং লক্ষ্মীপুর-১ আসন থেকে শাহাদাত হোসেন সেলিম জয় পেয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী হিসেবে তাদের নামও আলোচনায় আছে।
বিগত সময় বিএনপির সঙ্গে যারা যুগপৎ আন্দোলনে ছিলেন, সেই মিত্র দলগুলো থেকে মাত্র তিনজন জয় পেয়েছেন। তারা হলেন- বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) আন্দালিভ রহমান পার্থ, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি এবং গণঅধিকার আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুর। তারা তিনজনই নতুন মন্ত্রিসভায় ডাক পেতে পারেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা।
অন্যদিকে, সিনিয়র নেতাদের মধ্যে যারা এবারের মন্ত্রিসভায় থাকছেন না, তাদের মধ্যে কেউ কেউ জায়গা পেতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিষদে। তাদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা করা হতে পারে।
ইত্তেফাক/টেলিগ্রাম

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ