রবিবার

১লা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের মানুষ যখনই কোনো সংকটে পড়েছে, ঠিক তখনই তাদের পাশে ছায়া হয়ে দাঁড়িয়েছেন শহীদ রাষ্টপতি জিয়াউর রহমান

🕙 প্রকাশিত : ২০ জানুয়ারি, ২০২৬ । ৬:৩০ পূর্বাহ্ণ

মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও মানিকগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসকে যতজন প্রবাদপ্রতিম পুরুষ আলোকিত করেছেন তারমধ্যে সবচেয়ে অগ্রগণ্য হচ্ছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। এর প্রধান কারণ— বাংলাদেশ, বাংলাদেশের মানুষ যখনই কোনো সংকটে পড়েছে, ঠিক তখনই তাদের পাশে ছায়া হয়ে দাঁড়িয়েছেন তিনি, দিয়েছেন সঠিক দিকনির্দেশনা। নিজের, নিজের পরিবারের সদস্যদের জীবন বিপন্ন হবে জেনেও সব মানসিক, শারীরিক শক্তি দিয়ে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
এই সময়োচিত ও যথাযথ স্বাধীনতার ঘোষণা মুক্তিকামী জনতার মধ্যে এক ধরনের নতুন প্রাণসঞ্চার করে। তারা নিজেদেরকে এক একটা স্ফুলিঙ্গের মতো মনে করতে থাকে। ঝাঁপিয়ে পড়ে যুদ্ধে। এর অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যায়, মুক্তিযুদ্ধের উপ-অধিনায়ক এ কে খন্দকারের বয়ানে। তিনি বলেন, আমি নিজে জানি, যুদ্ধের সময় জানি, যুদ্ধের পরবর্তী সময়ও জানি যে মেজর জিয়া এই ঘোষণাটি পড়ার ফলে সারা দেশের ভেতরে এবং সীমান্তে যত মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, তাদের মধ্যে এবং সাধারণ মানুষের মনে সাংঘাতিক একটা ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। (মুক্তিযুদ্ধের পূর্বাপর, পৃষ্ঠা ৩০, প্রথমা প্রকাশন)
জিয়াউর রহমান ছিলেন একাধারে সেক্টর কমান্ডার এবং জেড ফোর্সের প্রধান। তিনি সম্মুখ থেকে নেতৃত্ব দিয়ে এ দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অতুলনীয় অবদান রেখেছেন। পুরো যুদ্ধের সময় তিনি তার স্ত্রী ও সন্তানদের কথা চিন্তা না করে স্বাধীনতাকামী মানুষের জনযুদ্ধকেই প্রাধান্য দিয়েছেন।
বাংলাদেশ যখন জিয়াউর রহমানের সুদৃঢ় নেতৃত্বে তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে সমৃদ্ধশালী দেশ হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছিল, বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি চরমভাবে উজ্জ্বল হচ্ছিল, বাংলাদেশের অর্থনীতি তার নিজের ভিত্তি তৈরি করছিল, ঠিক সেই সময়ই তাকে হত্যা করা হয়। জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করার প্রয়াস শুরু হয়।
১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে নতুন ধরনের রাজনীতির দিগন্ত উন্মোচন করেন। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ প্রবর্তন করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ নামক ভূখণ্ডে যারাই বসবাস করে, তার হোক মুসলমান, হোক হিন্দু, হোক বৌদ্ধ বা খ্রিস্টান, হোক উপজাতি, হোক বিশ্বাসী বা অবিশ্বাসী— তারা সবাই বাংলাদেশি। এই অসাধারণ মতবাদকে সামনে নিয়ে তিনি গ্রাম থেকে গ্রামে ছুটে বেড়ান। প্রণয়ন করেন বিএনপির রাজনীতির মূলভিত্তি ১৯ দফা। এই ১৯ দফা তখনকার সময় এতই যুগান্তকারী ও সময়োচিত রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ছিল যে, এর প্রয়োগে শেখ মুজিবের অপশাসন থেকে দেশ ধীরে ধীরে সুশাসনের দিকে ধাবমান হতে থাকে।
জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি এতটাই সফল একটা পদক্ষেপ ছিল যে, আজকের বাংলাদেশেও এটা সমভাবে প্রাসঙ্গিক। খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি কৃষিতে বিপ্লবের সূচনা করেন। কৃষকদেরকে প্রতিনিয়ত মোটিভেট করেন উৎপাদন দ্বিগুণ করার জন্য, কোনো অনাবাদি জমি না রাখার জন্য।
দেশের অর্থনীতির চাকাকে মজবুত করার জন্য শিল্পায়নের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। দেশে প্রথম গার্মেন্ট শিল্পের শুভসূচনা হয় জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই ১৯৮০ সালে। দেশ গার্মেন্টস বাংলাদেশের প্রথম গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রি। আজ এটিই বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত।

সোমবার বিকেলে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী ও জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মানিকগঞ্জ সাংস্কৃতিক বিপ্লবী সংঘ (সাবিস) মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফার সঞ্চালনায় এবং সভাপতি ডা. মো. জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এডভোকেট নূরতাজ আলম বাহার, এডভোকেট জহির আলম খান লোদী, গোলাম আবেদীন কায়সার, জেলা কৃষক দলের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া সাঈদ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম বাদল, কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আলী আশরাফ, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ডা. মো. বদরুল আলম, মুন্নু মেডিকেল কলেজের পরিচালক ডা. আব্দুল করিম প্রমুখ।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ