বুধবার

১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৬শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হরিরামপুরে ডিজেল সংকটে ভয়াবহ ক্ষতির আশঙ্কা কৃষকদের

🕙 প্রকাশিত : ১১ মার্চ, ২০২৬ । ৬:২৭ পূর্বাহ্ণ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে সরকার জ্বালানি সরবরাহে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করায় দেশজুড়ে কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন।
বিভিন্ন রকমের শাকসবজি তরি তরকারি, পেঁয়াজ, ভুট্টা
ধানসহ অন্যান্য ফসলে পানি দিতে না পেরে ব্যাহত হচ্ছে সেচ কার্যক্রম, যা বোরো চাষ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার অনেক এলাকায় স্থানীয় খুচরা বাজার থেকে ডিজেল রীতিমতো উধাও। দীর্ঘ সময় লাইন ধরে দোকান থেকে দোকানে ঘুরছেন কৃষক।
দাঁড়িয়ে থেকেও চাহিদামতো জ্বালানি মিলছে না, কারণ ডিজেল বিক্রির পরিমাণ সীমিত করে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পদ্মার চরাঞ্চলে রয়েছে ডিজেলের ভয়াবহ সংকট। উপজেলার কাঞ্চনপুর,ভাদিয়াখোলা,গোপীনাথপুর, বাল্লা, বাহিরচর চরাঞ্চলসহ প্রায় সব এলাকাতেই সেচ কাজে ডিজেল সংকটে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে।

উপজেলার চরাঞ্চলের লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের লাভলু মোল্লা, ভুট্টা ধানসহ বেশ কিছু জমিতে আবাদ ভালো হয়েছে তার। অতিরিক্ত দাম দিয়ে হায় হা হা কার করে ডিজেল নিয়ে দুইদিন চললাম। এখন তো সরাসরি ডিজেল নেই বলে দোকানদার মনে করে দিল। ধান আর ভুট্টা খেতে পানি দিতে না পারলে আমি বড় ধরণের ধরা খেয়ে যাব।

ভাদিয়া খোলা গ্রামের কৃষক আলমের স্ত্রী জানান, বর্তমানে ডিজেলের সংকট সেই সাথে সকল কিছু দাম বাড়বে বলে শুনতেছি। আমরা ধান পেঁয়াজ ভুট্টা চাষ করে থাকি। প্রতিদিন সেচ দিতে হয়, ডিজেলের সংকটে মেশিন চালিয়ে সেচ না দিতে পারলে আমাদের বড় ধরনের ক্ষতি হবে। এমনিতেই প্রচুর পরিমাণ পিয়াদের আবাদ হয়েছে আমাদের এলাকায়। সেখানেও ডিজেলের সংকটে পানি দিতে পারতেছি না। আপনারা কৃষকদের সাহায্য করে বাঁচান।

হরিরামপুরে জ্বালানি তেলের ডিলার দত্ত এন্টারপ্রাইজের কর্ণধার সুকুমার দত্ত জানান, কৃষকের চাহিদানুযায়ী ডিজেলের বড় সংকট তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের কাছে বিনীত অনুরোধ, এ সংকট সমাধানে যেন কার্যকরী একটা ব্যবস্থা নেয়।

হরিরামপুর উপজেলা কৃষি অফিসার তৌহিদুজ্জামান জানান, এই হরিরামপুরে কৃষকদের সেচ কাজে ব্যবহারের জন্য ডিজেলের বড় একটা চাহিদা আছে। আমি আজকের মধ্যেই চাহিদা দিয়ে ইউএনও মহোদয়ের কাছে একটি ফরওয়ার্ডিং করব। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে ছোট করে হলেও একটা ব্যবস্থা হবে।

মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা জানান, ডিজেল সংকটে সরকারি নির্দেশনার বাইরে আমরা কিছু করতে পারবো না। তবে কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী সংকট সমাধানে দেখি কি করা যায়।

উল্লেখ্য যে, বর্তমানে বিধিনিষেধের কারণে একজন ক্রেতা মাত্র দুই লিটার জ্বালানি কিনতে পারছেন। অভিযোগ উঠেছে, এই সুযোগে খুচরা দোকানগুলোতে প্রতি লিটারে বাড়তি ৫ থেকে ২০ টাকা গুণতে হচ্ছে কৃষকদের। কোথাও তো কোথাও কোথাও আবার ২০ থেকে ৫০ টাকায় উঠেছে।

সাধারণত ডিসেম্বর থেকে জুন মাস পর্যন্ত বোরো মৌসুম চলে। এ সময় দেশের বিভিন্ন এলাকায় সেচ কাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় ডিজেলচালিত পাম্প।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ৭৫৪টি ডিজেলচালিত গভীর নলকূপ, ১০ লাখ ৩৯ হাজার ৩৩৭টি অগভীর নলকূপ এবং ১ লাখ ৮৪ হাজার ৩৮৪টি লো-লিফট পাম্প সচল রয়েছে।
দেশের প্রধান ধান বোরোর আবাদ লক্ষ্যমাত্রা এবার ধরা হয়েছে ৫০ দশমিক ৫৪ লাখ হেক্টর। গত ৮ মার্চ পর্যন্ত এর মধ্যে ৪৮ দশমিক ৫৩ লাখ হেক্টরে চাষাবাদ সম্পন্ন হয়েছে।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ