শনিবার

২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৫ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সিংগাইরে সড়ক সংস্কারে অনিয়ম

🕙 প্রকাশিত : ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ৭:৪৫ পূর্বাহ্ণ

সিংগাইর উপজেলার চান্দহর ইউনিয়নে সড়ক সংস্কারকাজে নিম্নমানের ইট ও খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতির কথা বলে ঠিকাদার নাসির উদ্দিন নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করছেন, যা সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, চান্দহর ইউনিয়নের আটিপাড়া মন্দির থেকে হযরতপুর সীমানা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে নির্ধারিত মানের ইটের পরিবর্তে ভঙ্গুর ও নিম্নমানের ইট-খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, অনেক ইট হাতের হালকা চাপেই ভেঙে গুঁড়ো হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে কাজ চলতে থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি আবারও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এক কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“অনেক বছর ধরে রাস্তাটা ভাঙাচোরা ছিল। অবশেষে কাজ শুরু হওয়ায় আমরা খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু এখন যে মানের কাজ হচ্ছে, তাতে ছয় মাসও টিকবে কিনা সন্দেহ।”
স্থানীয় আরও কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সড়কের দুপাশ সম্প্রসারণ করা হলেও কিছু অংশে পুরোনো পিচঢালাই যথাযথভাবে অপসারণ না করেই তার ওপর নতুন স্তর বসানো হয়েছে। এতে ভিত্তি দুর্বল থেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের ভাঙনের কারণ হতে পারে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ঠিকাদার নাসির উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনে বিএনপি নেতা আসিফ ইকবালকে কথা বলার সুযোগ দেন। আসিফ ইকবাল বলেন,
“উপজেলা প্রকৌশলীর অনুমতি নিয়েই কাজ চলছে। কিছু জায়গায় কাজ নিম্নমানের মনে হতে পারে, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কোনো বাধা দেননি।”
তবে ঠিকাদার নাসির উদ্দিন দাবি করেন,
“আমরা সর্বোচ্চ মানের ইট ও খোয়া ব্যবহার করছি। কিছু স্থানে পুরোনো পিচ পুরোপুরি সরানো সম্ভব হয়নি। সেখানে বিকল্প হিসেবে রাবিশ ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে কাজের গতি বজায় থাকে।”
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সিংগাইর উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মাদ আশরাফুল ইসলাম ভূঁইয়া। তিনি বলেন,
“নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখতে লোক পাঠানো হচ্ছে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে কাজের মান যাচাই করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তাদের মতে, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার অব্যাহত থাকলে একদিকে সরকারি অর্থের অপচয় হবে, অন্যদিকে জনদুর্ভোগও বাড়বে বহুগুণে।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ