মানিকগঞ্জের সিংগাইরে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংগ্রাম ও সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে “অদম্য নারী পুরস্কার”পেয়েছেন পাঁচ নারী। তারা তাদের অর্জনকে কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য হিসেবে নয়, বরং নারী সমাজের অগ্রযাত্রা ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে দেখছেন।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে নির্বাচিত এই নারীরা হলেন—সফল জননী নারী ক্যাটাগরিতে জামির্ত্তা ইউনিয়নের মধুরচর গ্রামের মুহাম্মদ আলীর মেয়ে লতিফা, শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী হিসেবে সদর ইউনিয়নের চর আজিমপুর গ্রামের আব্দুস সামাদের মেয়ে জুলফিয়া সুলতানা, অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী হিসেবে জামির্ত্তা ইউনিয়নের রাজনগর গ্রামের করম আলীর মেয়ে মাজেদা আক্তার।
এছাড়া নির্যাতনের দুঃস্বপ্ন মুছে জীবন সংগ্রামে জয়ী নারী ক্যাটাগরিতে জামশা ইউনিয়নের দাড়িপাড়া গ্রামের আব্দুল খালেকের মেয়ে আমেনা আক্তার এবং সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন যে নারী তিনি সায়েস্তা ইউনিয়নের নীলটেক গ্রামের মো. নূরু মোল্লার মেয়ে রিনা আক্তার এ সম্মাননা অর্জন করেন।
পুরস্কারপ্রাপ্ত নারীদের প্রত্যেকের জীবনসংগ্রামের গল্প ভিন্ন হলেও তাদের লক্ষ্য এক—সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা এবং অন্য নারীদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ দেখানো।
সফল জননী নারী হিসেবে নির্বাচিত লতিফা বলেন, একজন মায়ের দায়িত্ব শুধু সন্তান লালন-পালনেই সীমাবদ্ধ নয়; সন্তানকে সুশিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধে গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, সচেতন মা একটি সুন্দর সমাজ গঠনে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন।
শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী জুলফিয়া সুলতানা মনে করেন, নারীর ক্ষমতায়নের মূল শক্তি হচ্ছে শিক্ষা। শিক্ষা নারীদের আত্মবিশ্বাসী করে তোলে এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি জোগায় ও পথ দেখায়।
অর্থনৈতিকভাবে সফল নারী মাজেদা আক্তার বলেন, নারীরা চাইলে নিজেদের পরিশ্রম ও উদ্যোগের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে পারেন। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নারীদের পরিবার ও সমাজে মর্যাদা বাড়ায় বলেও তিনি বিশ্বাস করেন।
নির্যাতনের কঠিন অভিজ্ঞতা পেরিয়ে জীবন সংগ্রামে জয়ী হওয়া আমেনা আক্তার বলেন, জীবনে যত বাধাই আসুক না কেন, সাহস ও আত্মবিশ্বাস থাকলে তা জয় করা সম্ভব। সমাজের সহমর্মিতা ও সচেতনতা নারীদের নতুন করে জীবন শুরু করার শক্তি দেয় বলেও তিনি মনে করেন।
সমাজ উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য নির্বাচিত রিনা আক্তার বলেন, এই সম্মান শুধু তার একার নয়; এটি পুরো সমাজের মানুষের সমর্থনের ফসল। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, বাল্যবিয়ে রোধ ও যৌন হয়রানি বন্ধে কাজ করে যাচ্ছেন এবং ভবিষ্যতেও এ কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
এই পাঁচ অদম্য নারীর সাফল্য প্রমাণ করে যে দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি,মনোবল,পরিশ্রম ও সাহস থাকলে নারীরা সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন। তাদের অর্জন ভবিষ্যতে অন্য নারীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে কাজ করবে।
উল্লেখ্য, মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের “অদম্য নারী পুরস্কার” কর্মসূচির আওতায় ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরে ইউনিয়ন,পৌরসভা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রাপ্ত বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে অবদান ও সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ নির্বাচিত এই পাঁচ নারীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। তাদের হাতে সম্মাননা স্মারক, সনদপত্র ও উপহার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।

