যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে মানিকগঞ্জে সম্পন্ন হয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী ও মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আফরোজা খানম রিতা–এর মাতা হুরন নাহার রশিদের দাফন। তিনি ছিলেন সাবেক মন্ত্রী, বিশিষ্ট শিল্পপতি ও মুন্নু গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হারুনার রশিদ খান মুন্নু–এর সহধর্মিণী।
রোববার (১ মার্চ) বিকেলে মুন্নু মেডিকেল কলেজ মাঠে মরহুমার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও মসজিদ-সংলগ্ন পারিবারিক কবরস্থানে স্বামীর কবরের পাশেই তাকে দাফন করা হয়। এর আগে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল–এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর সাড়ে ৬টায় ৮৩ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
জানাজা শেষে আয়োজিত বিশেষ মোনাজাতে মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। একই সঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং প্রয়াত শিল্পপতি হারুনার রশিদ খান মুন্নুর রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। বিএনপি চেয়ারপারসন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান–এর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা এবং দেশের শান্তি-সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ শোকানুষ্ঠান কেবল পারিবারিক পরিসরেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটি দলীয় সংহতি ও শক্তি প্রদর্শনের এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হয়ে ওঠে। জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাদের ব্যাপক উপস্থিতি মানিকগঞ্জের রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন বার্তা বহন করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ‘আমার দেশ’ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মাহমুদুর রহমান, মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মইনুল ইসলাম খান শান্ত, মানিকগঞ্জ-১আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবির, ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ তমিজ উদ্দিনএমপি, মরহুমার জামাতা শিল্পপতি মাইনুল ইসলাম।
এছাড়া এসময় মরহুমার দৌহিত্র (নাতী) রাশীদ মাইনুল ইসলাম,রাশীদ সামিউল ইসলাম,জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আ.ফ.ম নুরতাজ আলম বাহার,সত্যেন কান্ত পন্ডিত ভজন, অ্যাডভোকেট জহির আলম খান লোদী,অ্যাডভোকেট মোকসেদুর রহমান,মাসুদুল কামরুল হক মাসুদ,বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান,গোলাম কিবরিয়া সাঈদ, আব্দুস সালাম বাদল, নাসির উদ্দিন আহমেদ আহমেদ যাদু, গোলাম আবিদীন কায়সার, রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া হাবু,জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন,মাজহারুল ইসলাম খান পায়েল, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আসাদুজ্জামান খান দোলন, রিয়াজ মাহমুদ হারেজ, জেলা যুবদলের আহবায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দিপু,সদস্য সচিব তুহিনুর রহমান তুহিন, যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়াউদ্দিন আহমেদ কবির, মাসুদ পারভেজ,মোস্তাফিজুর রহমান প্রিন্স, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আব্দুল কাদের, জেলা মহিলা দলের সভাপতি সাবিহা হাবিব, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের অ্যাডভোকেট জিন্নাহ খান, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতিনসিরাজুল ইসলাম খান সজীব,জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল খালেক শুভ সাধারণ সম্পাদক সিরাজুর রহমান খান সজিবসহ বিএনপি ও এর সকল সহযোগী সংগঠনের নেতৃস্থানী ব্যক্তিবর্গ,
জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা, বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী, মুন্নু গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, আত্মীয়-স্বজন এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিগন মরহুমার রুহের মাগফেরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
মানিকগঞ্জের শিল্প, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে হারুনার রশিদ খান মুন্নু পরিবারের অবদান দীর্ঘদিনের। মুন্নু গ্রুপের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—বিশেষ করে মুন্নু মেডিকেল কলেজ—জেলার অর্থনৈতিক ও মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। সেই পরিবারের উত্তরসূরি হিসেবে আফরোজা খানম রিতার রাজনৈতিক অবস্থান স্থানীয় রাজনীতিতে একটি প্রভাবশালী মাত্রা যোগ করেছে।
জানাজার সময় সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। অনেকে মরহুমার মানবিক গুণাবলি ও ধর্মপরায়ণতার কথা স্মরণ করেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিনি ছিলেন সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে নীরব সহায়ক ও অত্যন্ত পরোপকারী একজন মানুষ।
দাফন শেষে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা পরিবারের সদস্য ও দলীয় নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে মায়ের কবর জিয়ারত করেন।
সব মিলিয়ে, শোকের আবহে আয়োজিত এই দাফন অনুষ্ঠান মানিকগঞ্জের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে একত্রতার একটি দৃশ্যমান প্রতিফলন হয়ে উঠেছে—যেখানে পারিবারিক বেদনার পাশাপাশি উঠে এসেছে ঐতিহ্য, উত্তরাধিকার এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক বাস্তবতার বহুমাত্রিক প্রতিচ্ছবি।

