দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায় প্রথম বিয়ের তথ্য গোপন করে দ্বিতীয় বিয়ে করার পর তালাকের নোটিশ পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে স্ত্রীকে কুপিয়ে জখম ও নাক কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাহিনুর ইসলাম (৩২) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। শনিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার হরিহরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন শাহিনুরকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন। তিনি জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার করঞ্জি গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে। তার প্রথম স্ত্রীর ঘরে দুটি সন্তান রয়েছে।
ভুক্তভোগী রিভা মণি (২০) হাকিমপুর উপজেলার হরিহরপুর গ্রামের আমিরুল ইসলামের মেয়ে।
ভুক্তভোগীর পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের মার্চ মাসে প্রথম স্ত্রী ও দুই সন্তানের বিষয়টি গোপন রেখে রিভা মণিকে বিয়ে করেন শাহিনুর। এরপর থেকে তিনি শ্বশুরবাড়ি হরিহরপুর গ্রামেই বসবাস করছিলেন। প্রায় তিন মাস আগে শাহিনুরের আগের বিয়ে ও সন্তানের বিষয়টি জানতে পারে রিভার পরিবার। গত বুধবার আদালতের মাধ্যমে শাহিনুরকে তালাকের নোটিশ দেন রিভা মণি।
পরিবারের অভিযোগ, তালাকের নোটিশ পাওয়ার পর গত শুক্রবার সন্ধ্যায় রিভার বাড়িতে গিয়ে তার সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান শাহিনুর এবং হত্যার হুমকি দেন। পরদিন সকালে বাড়িতে অন্য কেউ না থাকার সুযোগে ধারালো ছুরি দিয়ে রিভার শরীরে এলোপাতাড়ি কোপান তিনি। এতে রিভার নাক বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।
পরে স্থানীয়রা রিভাকে উদ্ধার করে প্রথমে হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। একই সঙ্গে অভিযুক্ত শাহিনুরকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, এক নারীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নাক কেটে দেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগীর মামা জাকারিয়া মণ্ডল বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত শাহিনুরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রোববার আদালতে পাঠানো হয়েছে।

