শনিবার

১১ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৮শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পৌর বর্জ্যে দখল নিচ্ছে ছোট যমুনা, অস্তিত্ব হারানোর শঙ্কা ফুলবাড়ীতে

🕙 প্রকাশিত : ১১ এপ্রিল, ২০২৬ । ১২:২৬ অপরাহ্ণ

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ছোট যমুনা নদী এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। পানিশূন্য হয়ে অনেকাংশে মরা খালে পরিণত হওয়া এই নদীতে প্রতিনিয়ত ফেলা হচ্ছে পৌর বাজারের ময়লা-আবর্জনা। ফলে নদীটি কার্যত ময়লার ভাগাড়ে রূপ নিয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে এই নদী পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ফুলবাড়ী-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ওপর নির্মিত জোড়া ব্রিজের নিচে এবং পৌর বাজারসংলগ্ন ফুটব্রিজের পূর্বপ্রান্তে নিয়মিতভাবে ময়লা ফেলা হচ্ছে। পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার দৈনন্দিন বর্জ্য এনে ফেলা হচ্ছে নদীর বিভিন্ন অংশে, যা নদীর তলদেশ ভরাট করে দিচ্ছে এবং স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, স্থায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা ফেলার নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় নদীকেই বেছে নেওয়া হয়েছে। এতে পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

স্থানীয় প্রবীণরা জানান, একসময় ছোট যমুনা ছিল এ অঞ্চলের প্রাণ। ৮০-এর দশকেও বর্ষায় নদী ভরে উঠত, এমনকি শুষ্ক মৌসুমেও নৌকা চলাচল করত। নৌপথে বিভিন্ন এলাকায় পণ্য পরিবহনসহ ব্যবসা-বাণিজ্য চলত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নাব্যতা কমে গেছে, পলি জমে অনেকাংশ ভরাট হয়েছে। অবৈধ দখল ও অব্যবস্থাপনায় নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে আজ এটি অনেক জায়গায় মরা খালে পরিণত হয়েছে।

পরিবেশবিদদের মতে, অব্যাহত দূষণ ও অবহেলা চলতে থাকলে একসময় এই নদীর অস্তিত্ব পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাবে।

ফুলবাড়ী সম্মিলিত সচেতন নাগরিক সমাজের সভাপতি হামিদুল হক বলেন, দ্রুত নদী খননের মাধ্যমে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা জরুরি। তা না হলে ভবিষ্যতে এই নদী শুধু ইতিহাসের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকবে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাশেদা আক্তার জানান, দেশের মিঠাপানির জলাশয়ে প্রায় ২৬০ প্রজাতির মাছ পাওয়া গেলেও এর মধ্যে ৬৪টি প্রজাতি হুমকির মুখে। জলবায়ু পরিবর্তন, কমে যাওয়া বৃষ্টিপাত, জলাশয় শুকিয়ে যাওয়া এবং পানিদূষণ এর প্রধান কারণ। নদীতে বর্জ্য ফেলার ফলে জলজ প্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস হচ্ছে এবং প্রজনন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

অন্যদিকে ফুলবাড়ী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ও ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লুৎফুল হুদা চৌধুরী দাবি করেন, পৌরসভা থেকে নদীতে কোনো বর্জ্য ফেলা হচ্ছে না। তিনি জানান, জাইকা প্রকল্পের আওতায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য প্রায় দেড় কোটি টাকা বরাদ্দ এলেও জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।

ফুলবাড়ী পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামিউল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই, তবে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দিনাজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ বলেন, নদীদূষণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ