রবিবার

১৫ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১লা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দুদকের তদন্ত চললেও বিমানে গুরুত্বপূর্ণ পদ পেলেন মিজানুর রশীদ

🕙 প্রকাশিত : ১৫ মার্চ, ২০২৬ । ৭:৩৪ পূর্বাহ্ণ

সরকারি অর্থে সফটওয়্যার কেনায় প্রায় তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিভাগীয় মামলার মুখে পড়া মো. মিজানুর রশীদকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যদিও তিনি দাবি করেছেন যে বিভাগীয় মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন, তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (যানবাহন) হিসেবে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় গত ৪ মার্চ মিজানুর রশীদকে বদলি করে অর্থ ও হিসাব বিভাগে নেওয়া হয়। পরদিন তাকে প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে তাকে। পাশাপাশি তার ওপর অর্থ বিভাগের পরিচালকের দায়িত্বও ন্যস্ত করা হয়েছে, যা মহাব্যবস্থাপকের চেয়েও উচ্চপদ।

বিমানের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুর্নীতির অভিযোগের মুখে থাকা একজন কর্মকর্তাকে এত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনায় তারা বিস্মিত।

অভিযোগ রয়েছে, বিমানের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের একটি প্রভাবশালী পক্ষের তদবিরেই মিজানুর রশীদ এসব দায়িত্ব পেয়েছেন। এ ক্ষেত্রে একজন অবসরপ্রাপ্ত পরিচালকের নামও আলোচনায় এসেছে, যিনি নিজেকে একজন মন্ত্রীর আত্মীয় হিসেবে পরিচয় দেন বলে বিমানের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, মিজানুর রশীদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই বিমানের সঙ্গে যুক্ত। তার বাবা এবং এক ভাইও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে চাকরি করতেন। তার বড় ভাই মো. হারুন অর রশীদ ভ্রমণ ভাতা ও দৈনিক ভাতার (টিএ/ডিএ) ভুয়া ভাউচার তৈরি করে ছয় কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন। ২০১৮ সালে ঢাকার মহানগর বিশেষ জজ আদালত তাকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানা করেন। বর্তমানে তিনি পলাতক।

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মো. মিজানুর রশীদ। তিনি বলেন, বিভাগীয় মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং দুদকও তাকে অব্যাহতি দিয়েছে।

এ বিষয়ে ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম। তিনি জানান, মিজানুর রশীদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান এখনো চলমান রয়েছে এবং এ বিষয়ে বিভিন্ন সংস্থা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ ফেব্রুয়ারি কমিশন থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে চিঠি পাঠিয়ে সফটওয়্যার কেনা, অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদন এবং বিভাগীয় মামলার তথ্য চাওয়া হয়। গত সপ্তাহে সংশ্লিষ্ট তথ্য দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছেছে।
তথ্য: ইত্তেফাক

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ