ফসলি জমির মাটি কাটা বন্ধে কঠোর অবস্থানের নির্দেশ দিয়েছেন মানিকগঞ্জ ২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মইনুল ইসলাম খান শান্ত। এ বিষয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৮ মার্চ) ইঞ্জিনিয়ার মুইনুল ইসলাম খান শান্ত তার ব্যক্তিগত ফেসবুক স্ট্যাটাসে এ নির্দেশনা দেন।
স্ট্যাটাসে জানানো হয়, কৃষিজমির মাটি কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিশেষ করে তিন ফসলি জমির মাটি কাটার বিষয়ে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এতে আরও বলা হয়, সিংগাইর ও হরিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তিন ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি অভিযানে জড়িতদের অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম জব্দ ও ধ্বংস করা হয়েছে।
তবে প্রশাসনের কড়াকড়ির পরও কিছু এলাকায় গোপনে মাটি কাটার খবর পাওয়া যাচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানানো হয়, বারবার অভিযান চালানোর পরও যারা অবৈধভাবে মাটি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, এভাবে মাটি কাটার ফলে উর্বর কৃষিজমির উৎপাদনশীলতা কমে যাচ্ছে এবং পরিবেশের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। যারা আইন অমান্য করে জমির মাটি বিক্রি করছেন, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত মামলা দায়ের করা হবে।
এছাড়া জমির মালিকদের প্রতিও বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে—তারা যেন তিন ফসলি জমির মাটি বিক্রি থেকে বিরত থাকেন। এরপরও কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সংসদ সদস্য বলেন, “আমি আপনাদের পাশে আছি। আপনারা এসব মাটিখেকোদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলুন।” তিনি সবাইকে সচেতন হয়ে প্রশাসনের চলমান অভিযানে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেওয়া এ বার্তায় কৃষিজমি রক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উর্বর ভূমি টিকিয়ে রাখতে সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

