জরিমানা, কারাদণ্ড ও ভেকু জব্দ—সব ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পরও সিংগাইর উপজেলায় থামছে না তিন ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার দৌরাত্ম্য। বরং প্রশাসনের অভিযানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আরও সংগঠিত হয়ে উঠছে মাটি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত আড়াই মাসে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে অন্তত ১৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি মামলায় ১০ লাখ টাকা জরিমানা আদায় এবং তিনজনকে এক মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১০টি ভেকু অকার্যকর করা হয়েছে এবং মাটি পরিবহনে ব্যবহৃত তিনটি ট্রলি আটক করা হয়েছে।
তবে এত কড়াকড়ির পরেও বাস্তবে দৃশ্যপট ভিন্ন। উপজেলার মোট ৫৮টি ইটভাটার মধ্যে মাত্র দুটি ইউনিয়ন—বলধারা ও চান্দহর—এই এলাকায় গড়ে উঠেছে প্রায় ৪০টি ভাটা। এসব ভাটার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে উর্বর কৃষিজমির মাটি, যা কৃষি উৎপাদনের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, চান্দহর ইউনিয়নের শান্তিপুর-বাঘুলি তদন্ত কেন্দ্রের আশপাশে প্রকাশ্যেই চলছে ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার রমরমা ব্যবসা। অথচ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান তৎপরতা খুবই কম।
প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানায়, অভিযানের আগাম তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়াই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। উপজেলা প্রশাসনের গাড়ি বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কোনো না কোনো মাধ্যমে খবর পৌঁছে যায় মাটি ব্যবসায়ীদের কাছে। ফলে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তারা সটকে পড়ে। এতে প্রকৃত হোতাদের আইনের আওতায় আনা কঠিন হয়ে পড়ছে।
এদিকে,ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাদের প্রতিটি ইটভাটার কাগজপত্র যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হলেও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে।
এ বিষয়ে সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট খায়রুন্নাহার বলেন, “অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে আমাদের মোবাইল কোর্টসহ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও নিয়মিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনোভাবেই এ ধরনের কার্যক্রম সহ্য করা হবে না।”
এদিকে, অবিলম্বে কঠোর নজরদারি, তথ্য ফাঁস রোধ এবং স্থানীয় প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে সিংগাইরের উর্বর কৃষিজমি ধ্বংসের মুখে পড়বে। এতে দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য উৎপাদন ও পরিবেশ উভয়ই মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত।

