নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় মহিলা কলেজের একাডেমিক ভবন নির্মাণকাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ এনে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন কলেজটির অধ্যক্ষ ও শিক্ষকরা।
অধ্যক্ষ মাহফুজার রহমানসহ সহকারী প্রভাষকরা জানান, ঠিকাদারকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি তা উপেক্ষা করে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে তারা নীলফামারী শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২২–২৩ অর্থবছরে পরিচালন বাজেটের আওতায় কিশোরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন মহিলা কলেজের চারতলা একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর ও প্রথম তলার নির্মাণকাজের জন্য ১ কোটি ১৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। টেন্ডারের মাধ্যমে কাজটি পায় স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হাবিবুর রহমান এন্টারপ্রাইজ। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হলেও কাজ শুরু হয় ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে। কাজ শেষের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর।
রোববার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, নির্মাণকাজ চলমান থাকলেও প্রকল্পসংক্রান্ত তথ্যসম্বলিত সাইনবোর্ড নেই এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোনো তদারকি কর্মকর্তার উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।
অধ্যক্ষ মাহফুজার রহমান অভিযোগ করেন, ছুটির দিনে ঠিকাদার নিম্নমানের স্থানীয় বালু ও প্রায় ১০ হাজার নিম্নমানের ইট ব্যবহার করে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করছেন। কলেজ কর্তৃপক্ষের অনুপস্থিতির সুযোগে মূল দেয়ালের গাঁথুনি শেষ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গাঁথুনির পর নিয়ম অনুযায়ী দেয়ালে পানি না দিয়ে দ্রুত বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে, যা ভবনের স্থায়িত্বের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
কলেজের অন্যান্য শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, নির্মাণকাজে নির্ধারিত শিডিউল মানা হচ্ছে না এবং নিম্নমানের ইট, মরিচাধরা রড, স্থানীয় বালু ও নিম্নমানের সিমেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে তদারকি কর্মকর্তা আসাদ মিয়া বলেন, কাজের বিভিন্ন ধাপে তিনি উপস্থিত ছিলেন এবং শিডিউল অনুযায়ী কাজ হয়েছে। তবে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।
ঠিকাদার হাবিবুর রহমান নিম্নমানের ইট ব্যবহারের কথা স্বীকার করে বলেন, একটি ভাটা মালিকের কাছে বকেয়া থাকায় সেখান থেকে ইট সংগ্রহ করা হয়েছে।
নীলফামারী শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাজেরুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

