বৃহস্পতিবার

২রা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৯শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সবেধন নীলমনি…

🕙 প্রকাশিত : ২ এপ্রিল, ২০২৬ । ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ

সাধারণ ছোট্ট একটি টিনের ঘর, ছোট্ট বারান্দা। আমাদের পাড়ার মানুষ ছাড়া অন্যদের কাছে এ ছবির কোন মূল্য হয়তো নেই। কিন্তু এমন সব ঘরের সাথে মিশে আছে আমাদের শৈশব, কৈশর, যৌবনের সূচনালগ্নের অসংখ্য মধুময় স্মৃতি, আনন্দ-বেদনার কাব্য।

১০টি পরিবার নিয়ে মানিকগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্রে গড়ে উঠেছিল আমাদের পাড়াটি। প্রাণকেন্দ্র কেন বলি সেটা একটু বলে নেই। আমাদের পাড়ার দেড়শ থেকে দুশো গজের মধ্যে ডিসি অফিস, এসপি, ডিসির বাসভবন, মানিকগঞ্জ সদর থানা, জজ কোর্ট, জেলার বৃহত্তম এবং প্রাচীন কলেজ। একটি স্কুল, স্টেডিয়ামের মত অনেক কিছু।

আমাদের পাড়ার এই ১০ পরিবারের মধ্যে যে আত্মিক বন্ধন ছিল তা ছিল রক্তের সম্পর্কের চাইতেও গভীর।

ভিন্ন ভিন্ন এলাকার ১০ পরিবার প্রধানেরা এ এলাকায় আবাস গড়েছিলেন। তাঁরা চলতেন, মিশতেনও, ভাইয়ের মত, বন্ধুর মত। তাঁদের সন্তান হিসেবে আমরাও সেভাবেই চলেছি, বড় হয়েছি এক পরিবারের মানুষের মত। আমরা ভাগ্যবান।

ছবির ঘরটি নিয়ে বলি। আমাদের পাড়ার দশ বাড়ির বাংলা ঘর বা বৈঠকখানা প্রায় একই চেহারার ছিল। ১৮ থেকে ২০ ডেসিমেলের একেকটা বাড়ির টিনের তৈরী বৈঠকখানার চারপাশে ছিল অঢেল খোলা যায়গা, ফুলের বাগান, ফল গাছের বাড়াবাড়ি রকমের ছায়া।

দশটি বাড়ির এইসব বৈঠকখানার ৮টিই এখন নেই, নেই খোলা জায়গা, ফুলের বাগান, কিচ্ছু নেই।

ছবির এই বাড়িটি আমার বাবার সহকর্মী, বাবার বন্ধু, নূরুল ইসলাম কাকার। কাকার মেঝ সন্তান ইছা আমার ন্যাংটাকালের দোস্ত, এখনও আমরা এক শহরেই আছি।

নূরুল ইসলাম কাকার এ ঘরের কয়েক হাত দূরে তাঁর সন্তানেরা ৫ তলা ভবন তুললেও তারা তাঁদের বাবার স্মৃতি হিসেবে আমাদের শৈশবস্মৃতির ঘরটি আজও তারা রেখে দিয়েছেন।

লেখক : সাংবাদিক ,কলামনিস্ট ও সাবেক কলেজ শিক্ষক

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ