শনিবার

১১ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৮শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শেষ যুদ্ধের আহ্বান: সংঘাত নয়, সংলাপেই টিকে থাকবে বিশ্বসভ্যতা??

🕙 প্রকাশিত : ১১ এপ্রিল, ২০২৬ । ১:০১ অপরাহ্ণ

বিশ্বসভ্যতা ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে ভয়াবহ অস্থিরতার মুখোমুখি হয়েছে। বর্তমান সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা আবারও বিশ্বকে এমন এক সংকটময় সন্ধিক্ষণে দাঁড় করিয়েছে, যেখানে শান্তি ও সংঘাত—দুটি পথই সমানভাবে উন্মুক্ত, কিন্তু পরিণতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

ঘোষিত যুদ্ধবিরতি আপাতদৃষ্টিতে স্বস্তির বার্তা দিলেও বাস্তবতা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে। লেবাননে অব্যাহত হামলা এই শান্তি উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। একদিকে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা, অন্যদিকে সামরিক তৎপরতা—এই দ্বৈত অবস্থান কেবল কূটনৈতিক অসংগতিই নয়, এটি গভীর নৈতিক সংকটের প্রতিফলন।

শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য যে ভাষা প্রয়োজন—সংযম, সম্মান ও পারস্পরিক আস্থার—তা অনুপস্থিত। বরং বর্তমান বিশ্বরাজনীতিতে আক্রমণাত্মক বক্তব্য, প্রতিপক্ষকে হেয় করার প্রবণতা এবং মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির কৌশলই বেশি দৃশ্যমান। এই বাস্তবতায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা কঠিন হয়ে পড়ে।

তবুও আশার আলো একেবারে নিভে যায়নি। সম্ভাব্য সংলাপের উদ্যোগ, বিশেষ করে ইসলামাবাদে আলোচনার সম্ভাবনা, প্রমাণ করে যে সংঘাতের মাঝেও আলোচনার পথ খোলা আছে। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—এই সংলাপ কতটা আন্তরিক, আর কতটা কৌশলগত সময়ক্ষেপণ?

এদিকে এই সংঘাতের প্রভাব কেবল যুদ্ধক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে তার প্রভাব খাদ্য, শিল্প ও পরিবহনসহ প্রতিটি খাতে পড়বে। ফলে এই যুদ্ধ কার্যত পুরো বিশ্বকেই জিম্মি করে ফেলছে।

ইতিহাস আমাদের সতর্ক করে দেয়—ভিয়েতনাম বা আফগানিস্তানের মতো দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত কোনো পক্ষের জন্যই প্রকৃত বিজয় বয়ে আনে না। বরং তা সামরিক, রাজনৈতিক ও নৈতিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবুও পরাশক্তিগুলোর মধ্যে একধরনের ‘অজেয়তার ভ্রান্ত ধারণা’ কাজ করে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

বর্তমান বিশ্ব আর একক আধিপত্যের যুগে নেই। বহুকেন্দ্রিক শক্তির উত্থান, প্রযুক্তিগত বিস্তার এবং বৈশ্বিক আন্তর্নির্ভরতা—সব মিলিয়ে আধুনিক বিশ্বে সংঘাতের মূল্য আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

এই প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো নৈতিক বোধের পুনর্জাগরণ। যে শক্তিগুলো অতীতে বিভিন্ন অঞ্চলের সম্পদ লুট করেছে, তারাই আজ সেই অঞ্চলের মানুষকে অবহেলার চোখে দেখে—এটি শুধু ইতিহাসবিস্মৃতি নয়, এটি এক গভীর নৈতিক ব্যর্থতা।

সুতরাং সময় এসেছে নতুন করে ভাবার। যুদ্ধের পথ পরিত্যাগ করে সংলাপ, সমঝোতা এবং পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে একটি টেকসই বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার বিকল্প নেই। কারণ আধুনিক যুদ্ধ আর কোনো সীমারেখায় আবদ্ধ থাকে না—এটি গোটা মানবসভ্যতাকে বিপর্যস্ত করে।

এই কারণেই আজ উচ্চারিত হওয়া উচিত একটাই আহ্বান—এই যুদ্ধ হোক শেষ যুদ্ধ।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ