পদ্মা সম্পর্কে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ তাঁর ছিন্নপত্রে লিখছেন :
“বাস্তবিক পদ্মাকে আমি বড়ো ভালোবাসি। ওর পিঠে এবং কাঁধে হাত বুলিয়ে ওকে আমার আদর করতে ইচ্ছা করে। এখন পদ্মার জল অনেক কমে গেছে—বেশ স্বচ্ছ কৃশকায় হয়ে এসেছে—একটি পাণ্ডুবর্ণ ছিপছিপে মেয়ের মতো, নরম শাড়িটি গায়ের সঙ্গে বেশ সংলগ্ন। সুন্দর ভঙ্গিতে চলে যাচ্ছে, আর শাড়িটি গায়ের সঙ্গে বেঁকে যাচ্ছে।” (ছিন্নপত্র, পৃ. ১৬০)।

ছিন্নপত্রের ১২৪ নং পৃষ্ঠায় রবীন্দ্রনাথ আরও বলছেন :
“দুই ধারে গ্রাম ঘাট শস্যক্ষেত্র চর, বিচিত্র মেঘ ভাসছে এবং সন্ধ্যের সময় নানা রঙ ফুটছে : নৌকা চলছে, জেলেরা মাছ ধরছে, অহর্নিশি জলের এক প্রকার আদর পরিপূর্ণ তরল শব্দ শোনা যাচ্ছে; অন্ধকারাচ্ছন্ন দুই কূল নিদ্রিত, পদ্মার নীরব খরস্রোতে ঝুপঝাপ করে পাড় খসে খসে পড়ছে—এই সমস্ত পরিবর্তনশীল ছবি যেমন চোখে পড়তে থাকে অমনি মনের ভিতরে একটা কল্পনার স্রোত বইতে থাকে।”

ভয়ঙ্কর পদ্মাও চিত্রিত হয়েছে রবীন্দ্র রচনায়…
“অদূরে বর্ষার পদ্মা নবমেঘচ্ছায়ায় বড়ো স্থির ভয়ঙ্কর ভাব ধারণ করিয়া চলিয়াছে। শস্যক্ষেত্রের অধিকাংশই ভাঙিয়া লোকালয়ের কাছাকাছি আসিয়া পড়িয়াছে। এমন কি ভাঙনের ধারে দুই চারিটা আম কাঁঠাল গাছের শিকড় বাহির হইয়া দেখা দিয়াছে যেন তাহাদের নিরুপায় মুষ্টির প্রসারিত অঙ্গুলিগুলি শূন্যে একটা কিছু অন্তিম অবলম্বন আঁকড়াইয়া ধরিবার চেষ্টা করিতেছি।” (রবীন্দ্র রচনাবলী ১৮শ খণ্ড)।
লেখক : সাংবাদিক ,কলামনিস্ট ও সাবেক কলেজ শিক্ষক


