ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সকলকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তার বোন মাসুমা হাদি। তিনি বলেছেন, শুধু একজনকে শাস্তি দিয়ে যদি অন্যদের আড়াল করা হয়, তবে সেটি কখনোই প্রকৃত ন্যায়বিচার হবে না।
সোমবার (৯ মার্চ) সকালে ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার খাসমহল এলাকায় নিজ বাড়িতে বসে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মাসুমা হাদি বলেন, “ফয়সাল একজন শুটার। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এতে আমরা কিছুটা আশাবাদী যে তার বিচার হবে। তবে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে আরও কারা জড়িত, ফয়সালকে কে নির্দেশ দিয়েছে, কে অর্থ জুগিয়েছে এবং কারা তাকে জেল থেকে জামিনে বের করতে সহায়তা করেছে—এসব বিষয়ও তদন্তের মাধ্যমে সামনে আনা জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, পুরো গ্যাংকে আইনের আওতায় আনতে হবে। শুধু ফয়সালকে বলির পাঁঠা বানিয়ে অন্যদের আড়াল করা হলে তা কখনোই ন্যায়বিচার হবে না।
এর আগে রোববার (৮ মার্চ) হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রায় আড়াই মাস পর মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। এসটিএফের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত শনিবার রাতে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার বনগাঁ এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
তবে ফয়সাল গ্রেপ্তার হলেও এতে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয় হাদির পরিবার। মাসুমা হাদি বলেন, অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার সম্পন্ন করতে হবে এবং ফয়সাল ও আলমগীরকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
জুলাই অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া শরীফ ওসমান হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনি গণসংযোগের সময় রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় হামলার শিকার হন তিনি। চলন্ত রিকশায় থাকা অবস্থায় একটি মোটরসাইকেলে এসে দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে প্রথমে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরে হাদির মৃত্যুর পর মামলায় হত্যার ৩০২ ধারা যুক্ত করা হয়। মামলার তদন্ত শেষে গোয়েন্দা পুলিশ সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করে গত ৬ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।
অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ উল্লেখ করেন, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং হাদির বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পাশাপাশি আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করা এবং ভোটারদের মধ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টি করাও হামলার উদ্দেশ্য ছিল বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
তবে ওই অভিযোগপত্রে সন্তুষ্ট নয় ইনকিলাব মঞ্চ। মামলার বাদী আব্দুল্লাহ আল জাবের নারাজি দাখিল করলে আদালত নতুন করে তদন্তের দায়িত্ব সিআইডিকে দেয়। বর্তমানে মামলাটি সিআইডি পুনঃতদন্ত করছে।

