মঙ্গলবার

১০ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৫শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

উদ্বোধনের দিনেই ফ্যামিলি কার্ডের টাকা অ্যাকাউন্টে, কড়াইলে আনন্দের জোয়ার

🕙 প্রকাশিত : ১০ মার্চ, ২০২৬ । ৬:০০ পূর্বাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্তৃক আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উপকারভোগীদের মোবাইল অ্যাকাউন্টে আড়াই হাজার টাকা জমা হওয়া শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে রাজধানীর মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি কলোনি মাঠে এই প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান চলাকালীন পাশের কড়াইল বস্তির নিম্নআয়ের বাসিন্দাদের মধ্যে আনন্দঘন পরিবেশ দেখা যায়। অনেকের মুঠোফোনে অর্থ জমা হওয়ার সরকারি বার্তা পৌঁছানোর পর উপস্থিত মানুষের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।

আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে সরাসরি রাষ্ট্রীয় এই আর্থিক সহায়তা পেয়ে অনেক অসহায় মানুষের চোখে আনন্দাশ্রু দেখা যায়। সরকার জানিয়েছে, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের দলীয় প্রভাব ছাড়াই অর্থ সরাসরি উপকারভোগীদের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আসা অনেকেই এই অর্থ নিয়ে তাদের ব্যক্তিগত পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। কেউ জরুরি ওষুধ কেনার কথা বলেছেন, আবার কেউ এই অর্থ থেকে কিছু সঞ্চয় করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কঠোর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এবার চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে এই ভাতার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে সরাসরি টাকা জমা হওয়ায় সুবিধাভোগীদের আর কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর দ্বারস্থ হতে হচ্ছে না, যা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে সন্তোষ বাড়িয়েছে।

বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন এবং বিভিন্ন ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে প্রকৃত দুস্থদের তথ্য যাচাই করে তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রকৃত উপকারভোগীরা যাতে কোনো হয়রানি ছাড়াই সরকারি এই সহায়তা পান, সে ব্যবস্থাই করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই উদ্যোগটি দরিদ্র পরিবারের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। কড়াইল বস্তিসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা এই অর্থ সহায়তাকে তাদের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখছেন।

বিশেষ করে পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে এই আড়াই হাজার টাকা সাধারণ মানুষের আনন্দকে দ্বিগুণ করে দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরীক্ষামূলক পর্যায়ের সফলতা বিবেচনায় ভবিষ্যতে কর্মসূচির পরিধি আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ