লেবাননের অর্ধশতাধিক গ্রাম ও জনপদ খালি করার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল। সোমবার (২ মার্চ) ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের ৫০টিরও বেশি গ্রাম ও শহরের বাসিন্দাদের সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছে— সম্ভাব্য হামলার আগে চিহ্নিত এলাকাগুলো দ্রুত ত্যাগ করতে হবে। এসব এলাকার এক হাজার মিটারের মধ্যে অবস্থান করলে জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
ইসরায়েলি বাহিনী আরও দাবি করেছে, হিজবুল্লাহর ছায়ায় অবস্থানকারী বা তাদের রসদ সরবরাহকারীদেরও লক্ষ্যবস্তু করা হবে। এতে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ইসরায়েলের তালিকায় থাকা গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে— সারিফা, মারুব, সেলা (টায়ার), দেবাল, বাফলিয়েহ, বারিশ, আরজাউন, কালাইলেহ, আল-শাহাবিয়া (তায়ের জিবনা), দারদঘায়া, বাস্তিয়াত, আরব সেলিম, ইয়াহমার (পশ্চিম বেকাআ), মাজদাল জোউন, জিবকিন, কানা, দেইর আমেস, আইতা আল-জাবাল, হানাইন (বিনতে জবাইল), হাউলা, বারাছিত, বিনতে জবাইল, আইতারউন, আয়নাতা, বুর্জ আল-শামালি, মারাকেহ, সিদ্দিকিন, আল-মাজাদেল, ওয়াদি জিলো, ড্রুইস (বালবেক) এবং মাইস আল-জাবালসহ আরও বেশ কয়েকটি এলাকা।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট মন্তব্য করেছেন, চলমান যুদ্ধ আরও চার সপ্তাহ পর্যন্ত গড়াতে পারে। তার ভাষ্য, “দেশটি বড় হলেও চার সপ্তাহের বেশি সময় লাগবে না।” তিনি আরও দাবি করেন, অভিযানে সৌদি আরবও যুক্ত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি রিয়াদ।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি, গোয়েন্দা সক্ষমতা ও সামরিক শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আধিপত্য তাদের দ্রুত ও নির্ভুল হামলা পরিচালনায় সক্ষম করেছে। তবে আঞ্চলিক বাস্তবতা, দীর্ঘদিনের মতাদর্শিক প্রভাব এবং জটিল সামাজিক-রাজনৈতিক কাঠামো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
অর্ধ শতাব্দী ধরে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইরান একটি কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সেই সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ক্ষমতার শূন্যতা সৃষ্টি যতটা সহজ, তা পূরণ করা ততটাই কঠিন— আর সেটির ওপরই নির্ভর করবে মধ্যপ্রাচ্যের আগামী পরিস্থিতি।
উল্লেখ্য, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাজ্য। এতে সংঘাতের পরিধি আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

