মঙ্গলবার

১৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইরান ইস্যুতে অবস্থান বদল আরব দেশগুলোর, যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান

🕙 প্রকাশিত : ১৭ মার্চ, ২০২৬ । ৬:২১ পূর্বাহ্ণ

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো তাদের অবস্থানে পরিবর্তন এনেছে। শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধের আহ্বান না জানালেও এখন এসব দেশ ওয়াশিংটনকে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সংঘাত মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) পর্যন্ত টানা ১৮ দিন ধরে চলছে। তিনটি উপসাগরীয় সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, এসব দেশের প্রধান উদ্বেগ হলো—ইরান যেন আর উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ ও অর্থনীতির জন্য হুমকি হয়ে থাকতে না পারে।

একই সময়ে, পাঁচজন পশ্চিমা ও আরব কূটনীতিক জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সরাসরি যুক্ত হওয়ার জন্যও চাপ দিচ্ছে। সূত্রগুলো বলছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানে আঞ্চলিক সমর্থন দেখাতে চান, যাতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গ্রহণযোগ্যতা ও অভ্যন্তরীণ সমর্থন বৃদ্ধি পায়।

সৌদি আরবভিত্তিক গালফ রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান আব্দুলআজিজ সাগের বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে এখন এই ধারণা শক্তিশালী হয়েছে যে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোর ক্ষেত্রে ‘সব রেড লাইন’ অতিক্রম করেছে।

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ইরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। প্রথমে মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালালেও পরবর্তীতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা ও পরিবহন খাতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে তেহরান। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, উপসাগরীয় অন্তত ছয়টি দেশে এসব হামলা চালানো হয়েছে, যা অঞ্চলজুড়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

উপসাগরীয় দেশগুলোর আশঙ্কা, ইরানের সামরিক সক্ষমতা অক্ষুণ্ণ থাকলে ভবিষ্যতে উত্তেজনা বাড়লেই তেহরান জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথগুলোকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। এ কারণে অনেক আরব দেশের মধ্যে ইরানকে সামরিকভাবে দুর্বল করার দাবি জোরালো হয়েছে।

একটি উপসাগরীয় সূত্র জানিয়েছে, আরব নেতাদের মধ্যে এখন একটি স্পষ্ট মনোভাব তৈরি হয়েছে—ইরানের সামরিক শক্তি পুরোপুরি দুর্বল না করা হলে অঞ্চলটি দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকির মুখে থাকবে।

বিশ্লেষকদের মতে, শিয়া অধ্যুষিত ইরান ও সুন্নি-প্রধান আরব দেশগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরব দেশগুলোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এই সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ