পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে না পারায় খাইরুন বেগম (৩৫) নামে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে একটি বেসরকারি এনজিও সংস্থার কর্মীদের বিরুদ্ধে। বর্তমানে তিনি কলাপাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের গন্ডামারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী খাইরুন বেগম জানান, গত বছরের ডিসেম্বরে একটি এনজিও থেকে ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে তার স্বামী নজির মোল্লা কুয়েতে যান। তবে বিদেশে চলমান সংকটের কারণে তিনি নিয়মিত টাকা পাঠাতে না পারায় কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হন।
তার অভিযোগ, শনিবার দুপুরে কিস্তির টাকা আদায়ের জন্য সংস্থাটির স্থানীয় শাখার ম্যানেজার মনিরসহ দুই নারী কর্মী তার বাড়িতে যান। এ সময় টাকা দিতে না পারায় তারা তাকে চুল ধরে টানা-হেঁচড়া, কিল-ঘুষি এবং তলপেটে লাথি মারেন। এতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
স্থানীয় সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য মালা বেগম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে খাইরুন বেগমকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি বলেন, একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীর সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
কলাপাড়া হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ববি মালকার জানান, গৃহবধূর তলপেটে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আলট্রাসনোগ্রামে ভ্রূণ সুস্থ রয়েছে, তবে ঝুঁকি এড়াতে তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট এনজিও শাখার ম্যানেজার মনির। তার দাবি, কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি এবং তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
কলাপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নজরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

