কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে একটি পীরের দরবারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ এবং পীরকে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একই সঙ্গে ‘মব কালচার’ দমনে সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগও তুলেছে দলটি।
শনিবার (১১ এপ্রিল) রাতে এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শনিবার দুপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে একদল উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি দৌলতপুরের একটি দরবারে হামলা চালায়। এ সময় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে এবং দরবারের প্রধান পীর শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীর নিহত হন। এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এনসিপি দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।
এনসিপি বলেছে, ধর্ম অবমাননার মতো সংবেদনশীল অভিযোগের তদন্ত ও বিচার আদালতের মাধ্যমেই হওয়া উচিত। কিন্তু ‘মব-সহিংসতা’ চালিয়ে যারা হত্যা ও অগ্নিসংযোগ করেছে, তারা গুরুতর ফৌজদারি অপরাধে জড়িত। দলটির মতে, স্থানীয় ক্ষমতার ছত্রচ্ছায়া ছাড়া এ ধরনের ঘটনা ঘটানো সম্ভব নয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অতীতেও রাজবাড়ীতে মাজার ভাঙচুর ও লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ উঠেছিল।
সরকারের সমালোচনা করে এনসিপি বলেছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বারবার ‘মব কালচার’ বন্ধের ঘোষণা দিলেও বাস্তবে তা দমন করা যাচ্ছে না। বরং জাতীয় নির্বাচনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থায় (বাসস) সরকার-সমর্থিত গোষ্ঠীর ‘মব’ আচরণের অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্টদের পদত্যাগে বাধ্য করার উদাহরণও তুলে ধরে দলটি।
এনসিপির অভিযোগ, একদিকে সরকার ‘মব কালচার’ বন্ধের কথা বলছে, অন্যদিকে সরকার-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকে প্রশ্রয় দিচ্ছে এবং ভিন্নমত দমনে ‘মব কালচার’ শব্দটি ব্যবহার করা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কথা উল্লেখ করে এনসিপি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, সরকারের মুখপাত্রের ভূমিকা পালন না করে বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে হবে।

