মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে জমির নামজারি (খারিজ) করতে গিয়ে ঘুষ ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এবার সরাসরি ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করে অভিযোগের মুখে পড়েছেন অফিসের পিয়ন পারভীন আক্তার। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, তিনি তার জমির খারিজের বিষয়ে কথা বলতে গেলে পিয়ন পারভীন আক্তার তাকে সাফ জানিয়ে দেন, টাকা ছাড়া কাজ হবে না। তিনি মোট ১০ হাজার টাকা দাবি করেন এবং শর্ত দেন যে, কাজ শুরুর আগেই ২ হাজার টাকা অগ্রিম দিতে হবে। বাকি ৮ হাজার টাকা দিতে হবে কাজ শেষ হওয়ার পর। সরকারি অফিসে পিয়নের এমন প্রকাশ্য দরদামে হতবাক হয়ে পড়েন সেবাগ্রহীতারা।
অভিযোগের বিষয়ে পারভীন আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে তিনি কথা বলতে রাজি হননি। তবে ঘুষ দাবির অডিও বা ভিডিও প্রমাণ রয়েছে জানামাত্রই তার সুর পাল্টে যায়। তিনি সাংবাদিকদের টাকা দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এছাড়াও তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর থেকে সাংবাদিকদের ফোন দিয়ে নিজের অপকর্মের জন্য মাফ চান এবং সংবাদ প্রকাশ না করতে অনুরোধ জানান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘিওরের এই ভূমি অফিসে টাকা ছাড়া কোনো ফাইল নড়ে না। নামজারি বা খতিয়ান সংশোধনের মতো সাধারণ কাজের জন্য সাধারণ মানুষকে মাসের পর মাস ঘোরানো হয়। এলাকাবাসীর ধারণা, একজন পিয়ন একা এত বড় সাহস পেতে পারেন না; এর পেছনে অফিসের কোনো শক্তিশালী সিন্ডিকেট জড়িত রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, ভূমি অফিসের এই অনিয়ম সরকারের উন্নয়ন ও সেবা কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তারা অবিলম্বে তদন্তের মাধ্যমে পারভীন আক্তারসহ এই চক্রের সঙ্গে জড়িত সবার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। ভুক্তভোগীরা এখন জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন।

