রোজার ঈদকে সামনে রেখে বাসে প্রায় ১৪৮ কোটি টাকা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের যে দাবি করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি, তা ‘ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর’ বলে অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ। এ নিয়ে সংগঠনটির নেতারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
শুক্রবার রাজধানীর পরীবাগে বোরাক টাওয়ারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম বলেন, “যাত্রী কল্যাণ সমিতির নামে জনৈক মোজাম্মেল হক ঈদযাত্রার বাসে ১৪৮ কোটি টাকা বাড়তি ভাড়া আদায়ের যে তথ্য দিয়েছেন, তা সম্পূর্ণ অসত্য, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও কাল্পনিক। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”
তিনি আরও বলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ওই দাবির যথাযথ প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে, অন্যথায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী এক বিবৃতিতে দাবি করেন, গত ১৪ থেকে ১৮ মার্চ পর্যন্ত ঈদযাত্রা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে তারা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের চিত্র পেয়েছেন। তার অভিযোগ, সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে দূরপাল্লা ও সিটিবাসে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে পরিবহন মালিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, কিছু অবৈধ কাউন্টার ও অসাধু চক্রের কারণে এমন অভিযোগ উঠছে। বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি হুমায়ুন কবির খান বলেন, “টার্মিনালের বাইরে অনেক অবৈধ কাউন্টার রয়েছে, যেগুলো কোনো প্রতিষ্ঠিত পরিবহনের নয়। এসব জায়গায় যাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণার ঘটনা ঘটে।”
তিনি জানান, বাইপাইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২০০টির মধ্যে ১৫০টি কাউন্টার অবৈধ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অবৈধ কাউন্টার উচ্ছেদে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়। বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. হানিফ বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠিত পরিবহনের নাম ব্যবহার করে প্রতারণা করছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদনে বলা হয়, এবারের ঈদে দূরপাল্লার বাসে প্রায় ৪০ লাখ ট্রিপে যাত্রীদের গড়ে ৩৫০ টাকা করে অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হচ্ছে, যা মোট ১২১ কোটি ৮০ লাখ টাকায় দাঁড়ায়। এছাড়া সিটিবাসে ৬০ লাখ ট্রিপে গড়ে ৫০ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় হলে আরও ২৬ কোটি ১০ লাখ টাকা যুক্ত হয়ে মোট প্রায় ১৪৮ কোটি টাকা অতিরিক্ত আদায়ের হিসাব দাঁড়ায়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

