বৃহস্পতিবার

১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পঞ্চগড়ের তাপমাত্রা নামলো ১০ ডিগ্রিতে

🕙 প্রকাশিত : ৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ । ৬:০১ পূর্বাহ্ণ

টানা দুই দিন ধরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে দেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ শেষ হওয়ার আগেই হিমেল বাতাস ও ঘন কুয়াশায় পুরো জেলার জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, জেলাজুড়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে।

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষ। ভোরের প্রচণ্ড ঠান্ডায় মাঠে-ঘাটে কাজে নামা দিনমজুরদের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে।
রোববার (৭ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ। এর আগে মঙ্গলবার তাপমাত্রা নেমেছিল ১১ দশমিক ৭ ডিগ্রিতে। বুধবার থেকে শুক্রবার তিন দিন ছিল ১২ ডিগ্রি। শনিবারও তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি, সঙ্গে ৯৪ শতাংশ আর্দ্রতা। ঘন কুয়াশার কারণে সড়কে ধীরগতিতে যান চলেছে এবং দুর্ঘটনা এড়াতে হেডলাইট জ্বালিয়ে চালাতে হয়েছে গাড়ি। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
রোববার ভোর থেকেই জেলাজুড়ে ঘন কুয়াশা দেখা দেয়। সকাল ৮টা পর্যন্ত সড়কপথ ও মাঠ-ঘাট কুয়াশার সাদা চাদরে ঢাকা ছিল। দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় সকালজুড়ে যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরে চলতে হয়েছে।
শীত বাড়ায় দুর্ভোগে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। অনেকেই বাড়ির আঙিনায় ও রাস্তার মোড়ে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন।
দূরপাল্লার বাসচালক হানিফ বলেন, ‘কুয়াশা খুব ঘন। আগে ঢাকা থেকে পঞ্চগড় যেতে ৮-১০ ঘণ্টা লাগত, এখন সময় লাগছে ১২-১৩ ঘণ্টা।’
ভ্যানচালক আব্দুল জলিল জানান, ‘সকালে কুয়াশার জন্য যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না, আয় কমে গেছে।’
পাথরশ্রমিক মফিজ উদ্দিন বলেন, ‘ঠান্ডার কারণে নদীতে নামতে পারছি না। কাজ না করলে চলবে কীভাবে? তারপরও নামতেই হবে।’
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, ‘তাপমাত্রা এখনো মৃদু শৈত্যপ্রবাহের ঘরেই রয়েছে। ডিসেম্বরের শুরুতেই এমন আবহাওয়ায় সামনের দিনগুলোতে শৈত্যপ্রবাহ আরও জোরদার হতে পারে। রাতে তাপমাত্রা কমবে, কুয়াশা আরও ঘন হতে পারে।’

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ