মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার দুর্গম আলোকদিয়া এলাকায় যমুনা নদীতে ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে আবারও গুলির ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১০ মে) ভোরে আলোকদিয়া খেয়াঘাটের ৭ নম্বর টাওয়ার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলোকদিয়া গ্রামের কাছে যমুনা নদীতে ইজারা নেওয়া এলাকায় পলি কাটাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এরই জেরে গত ৩ এপ্রিল প্রতিপক্ষের হামলায় ইজারাদার কাওছার আলমের ম্যানেজার মিরাজ হোসেন (৪০) নিহত হন। ওই ঘটনায় ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে গত ৪ মে পটুয়াখালীর বাউফল এলাকা থেকে রাসেল (২৪) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। তিনি আলোকদিয়া শোকুলিয়া গ্রামের নাজেরের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, রোববার ভোর ৬টার দিকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র দল তিনটি কাটারে এসে ৭ নম্বর টাওয়ার এলাকায় অবস্থানরত শ্রমিক ও ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের লোকজনকে ডেকে তোলে। পরে তারা হুমকি দিয়ে বলে, “সকাল ৭টার মধ্যে সব সরঞ্জাম নিয়ে এখান থেকে চলে যেতে হবে। ফরিদপুর থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত যমুনায় শুধু ‘ছাত্তার কমিশনারে’র নামে ড্রেজিং চলবে।”
এ সময় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে তারা কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে দ্রুত উত্তর দিকে চলে যায় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। খবর পেয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা পর সকাল ৮টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে।
মেসার্স ইকরাম কনস্ট্রাকশনের ইজারাদার মুঠোফোনে জানান, তাদের প্রতিষ্ঠান ১ কোটি ২০ লাখ টাকায় তেওতা বালুমহাল ইজারা নিলেও তিনি সরাসরি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন না। বর্তমানে অন্যরা এর দায়িত্বে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
শিবালয় থানার এসআই আলমগীর হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশের ১০ সদস্যের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেছে। আগের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে রাসেল নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। তবে রোববারের গুলির ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
যমুনায় বালুমহাল দখল নিয়ে ফের গোলাগুলি, শিবালয়ে চরম আতঙ্ক
🕙 প্রকাশিত : ১০ মে, ২০২৬ । ১:২৫ অপরাহ্ণ

