মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় কাজের আগে ২ শতাংশ ঘুষ না দেওয়ায় ঠিকাদারের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে প্রকৌলশী মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইমরুল হাসানকে ঘুষ না দেওয়ার কারণে এক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে| এ বিষয়ে উক্ত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান প্রধান প্রকৌশলী বরাবর ওই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ব্যপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন| অন্যন্য ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মালিকরা জানিয়েছেন টাকা ছাড়া ফাইল নড়ে চরে না এই কর্মকর্তার টেবিল থেকে| বর্তমানে ২ মাস ধরে কাজ বন্ধ রয়েছে|
এস আর টেড্রার্স ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান অভিযোগে পত্রে উল্লেখ করেন, সাটুরিয়া উপজেলার ধানকোড়া ইউনিয়ন পরিষদ অফিস হতে ধুল্লা ভায়া খুনিরটেক বাজার সড়কে ১ কোটি ৬১ লক্ষ টাকায় দুই হাজার মিটার সড়কের উন্নয়ন কাজ এলটিএম এর মাধ্যমে কাজটি পাই| গত ২০ ডিসেম্বর অফিসিয়াল ¯^ারকমূলে আমার প্রতিষ্ঠান এস আর টেড্রার্স এর নামে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়| কাজ কার্যাদেশ পাওয়ার পর আমি সাটুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী ও উপসহকারি প্রকৌশলীর সাথে যোগাযোগ করে কাজ শুরু করার অনুমতি চাই|
সাটুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইমরুল হাসান কাজ শুরু করার অনুমতি দিলে ৩৫০ মিটার প্যালাসাইডিং এর খুটি ˆতরী করার মালপত্র ক্রয় করে সাইডে মজুদ করি| পরে খুটি তৈরী করার জন্য ১০ জন রাজমিস্ত্রি (শ্রমিক) টাঙ্গাইল থেকে আসলে উপজেলা প্রকৌশলী ও উপপ্রকৌশলী কাজ বন্ধ করে দেন| ১০ জন রাজমিস্ত্রি ৭ দিন বসিয়ে রেখে তাদের মুজুরি দিয়ে চলে যেতে বলি|
এদিকে উপসহকারি প্রকৌশলী মো. রাশেদ মিয়া সাইট পরির্দশন করে আমাকে পরের দিন অফিসে আসতে বলেন| পরের দিন অফিসে আসলে উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইমরুল হাসান আমাকে রেডিমেট খুঁটি দিয়ে কাজ করার পরামর্শ দেন| আমি রেডিমেট খুঁটি দিয়ে কাজ করতে আপত্তি করলে আমার উপর ক্ষিপ্ত হন| পরে আমাকে জানানো হয় ক্রয়কৃত মালপত্র টেষ্ট্রে পাঠানো হবে| টেষ্ট্রের ফলাফল ভালো আসলে কাজের পুনরায় অনুমতি চাই|
উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইমরুল হাসান কাজ শুরু করার আগে বরাদ্ধকৃত ১ কোটি ৬১ লক্ষ টাকার মধ্যে ২ শতাংশ টাকা ঘুষ দাবি করেন| এতে আমি রাজি হয়ে তিনদিনে সময় চাই| কাজ চলমান অবস্থায় তিনদিনের মধ্যে ২ শতাংশ ঘুষের টাকা দিতে না পারায় কাজ বন্ধ করে দেন| কাজ বন্ধ করে দেওয়া হলে আমার ২০০ ব্যাগ সিমেন্ট জমে যায়| রড,পাথর ও বালু সিংহ ভাগ সাইট থেকে চুরি হয়ে যায়| এতে আমি ২০ লক্ষ টাকার লোকসানে পড়ি|
এস আর টের্ড্রাসের মালিক মো. রুমান বলেন,আমি একজন ছাত্র| ছাত্র জীবেন এটি আমার লাইসেন্স প্রথম কাজ| নিজেকে লেখাপড়ার পাশাপাশি ঠিকাদার ব্যবসা করে নিজেকে প্রতিষ্ঠাতা করতে চেয়েছিলম| কিন্তু এসব দুনীতিবাজ কর্মকর্তার কারণে তা ভেস্তে যেতে বসেছে| আমি ঘুষ না দেওয়ার কারণে আমার কাজ বন্ধ করে রেখেছেন উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইমরুল হাসানসহ উপসহকারি মো. রাশেদ মিয়া|
মো. রুমান মিয়া জানান, সাটুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মো.ইমরুল হাসানকে দুর্নীতির কারণে জয়পুরহাট জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে সদর দপ্তরে সহকারি (চ.দ.) হিসেবে প্রেষণে বদলি করা হয় গত ৯ মার্চ| কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাকে বদলি আদেশ প্রত্যাহার করে আবার ২৪ মার্চ আগের কর্মস্থল সাটুরিয়া উপজেলায় বহাল রাখে| এই দুর্নীতিবাজ কর্মকতার বিরুদ্ধে আমি গত ২৫ মার্চ প্রধান প্রকৌশলীর নিকট ক্ষতিপূরণ ও দুর্নীতির বিচার চেয়েছি|
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা হয়, সাটুরিয়া উপজেলার কয়েকজন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মালিকের সঙ্গে| তারা জানান, প্রতিটি কাজ থেকে উপজেলা প্রকৌশলী ১ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশ মূল বরাদ্ধ টাকার উপরে ঘুষ নিয়ে থাকেন| এরপর তিনি কাজের গুনগত মান ও ভুল ধরে আরো অতিরিক্ত টাকা ঘুষ নিয়ে থাকেন| কেন ১ শতাংশ থেকে তিন শতাংশ টাকা ঘুষ দিতে হয় জানতে চাইলে ঠিকাদাররা জানান, ঘুষের টাকা না দিলে ওই প্রকল্পের কাজ কোন ঠিকাদার করতে পারবে না| এমনকি কাজই উঠাতে পারবে না| ঘুষ না দিলে ওই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে প্রকৌশলীরা লালবাতি জ্বালিয়ে দিবে| এ কারণে কাজের আগেই ১ থেকে ২ শতাংশ ঘুষের টাকা অগ্রীম দিয়ে কাজ শুরু করতে হয়| তারপরও নয়ছয়তো রয়েছে|
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,গত ৫ আগষ্ট থেকে অনেক আওয়ামীলীগ ঠিকাদাররা কাজ ফেলে পালিয়ে যান| তাদের কাজগুলো এই প্রকৌশলী নিজের পছন্দ ঠিকাদারদের দিয়ে কাজ করিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে|
ঠিকাদার মো. রফিকুল ইসলাম মল্লিক বলেন, এডিপির প্যাকেজের কাজ পাওয়ার পর কার্যাদেশ নিতে প্রতিটি প্রকল্পের মোট টাকার বরাদ্ধ থেকে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা অগ্রিম ঘুষ দিয়ে কাজের কার্যাদেশ নিতে হয়| অগ্রিম ঘুষ না দিলে কার্যাদেশ দিতে ঘরিমশি করেন প্রকৌশলী মো. ইমরুল হাসাস| অনিয়ম ও দুর্নীতি করার কারণে এই কর্মকর্তাকে নাকি জয়পুরহাট সদরে বদলি করা হয়েছিল| পরে জানাতে পারি বদলির আদেশ ফিরিয়ে পুনরায় কর্মস্থলেই রয়েছেন|
এ বিষয়ে জানতে সাটুরিয়া উপজেলা প্রকৌলশীর কার্যালয়ে গেলে প্রকৌশলী মো. ইমরুল হাসানকে অফিসে পাওয়া যায়নি| পরে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি জানান, ওই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান আমাকে না জানিয়ে কাজ শুরু করায় কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে| কাজ শুরু করার আগে ২ শতাংশ অগ্রীম ঘুষ দিতে হবে জানাতে চাইলে তিনি বলেন, এ কাজের জন্য ঠিকাদারের কাছে কোন প্রকার অগ্রীম ঘুষের টাকা চাওয়া হয়নি| আপনার সাথে ঘুষ চাওয়ার অডিও রেকর্ড রয়েছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শুনেছি অনেকে নাকি এ আই দিয়ে অডিও রেকর্ড ˆতরী করতে পারে| তবে এসব বিষয়ে আলাপকালে টেলিগ্রামের সাটুরিয়া প্রতিনিধিকে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করে আমার সাথে দেখা করেন|
এ ব্যাপারে সাটুরিয়ার ইউএনও মো. ইকবাল হোসেন বলেন, যেকোন প্রকল্পের কাজ শুরু বা শেষ হওয়ার আগে পরে কোন প্রকার ঘুষ নেওয়ার সুযোগ নেই| ঘটনার সত্রতা পেলে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে|

