শনিবার

৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৪শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মানিকগঞ্জে এক ইউনিয়নে ৩৬ ইটভাটা, চরম দুর্ভোগে ইউনিয়নবাসী

🕙 প্রকাশিত : ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ । ৭:১২ পূর্বাহ্ণ

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার বলধারা ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নের ভেতরেই গড়ে উঠেছে ৩৬টি ইটভাটা। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে পরিচালিত এসব ইটভাটার কারণে মারাত্মক পরিবেশ দূষণের মুখে পড়েছে পুরো ইউনিয়ন। ধোঁয়া, ধুলা ও বিষাক্ত গ্যাসে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের জীবনযাপন।
জানা যায়, উপজেলার ৪নং বলধারা ইউনিয়নের মোট আয়তন ৩০.৩১ বর্গকিলোমিটার। জনসংখ্যা রয়েছে মোট ২৯,০৮৫ জন। আর এই ইউনিয়নেই গড়ে উঠেছে ৩৬ টি ইটভাটা। এর মধ্যে চলোমান রয়েছে ২৬ টি ইট ভাটা।এর মধ্যে গত অর্থ বছরে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করেছিলেন ১৫ টি ভাটা। এবং চলতি অর্থবছরের ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করেছেন ১৮ টি ইটভাটা।
স্থানীয়রা জানান, ইটভাটা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালা, চর্মরোগসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন শিশু ও বৃদ্ধরা। কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, ফসলের ফলন কমে যাচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ির আশপাশে ইটভাটা থাকায় স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে।
বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে ভাটার কার্যক্রম বেড়ে গেলে পুরো এলাকা ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। দিনের পর দিন সূর্যের আলো পর্যন্ত ঠিকমতো দেখা যায় না বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
বলধারা ইউনিয়নের মোঃ সোলাইমান মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, “এই ইউনিয়নের রাস্তাঘাট আগে খুব ভালো ছিলো। এই ইটভাটাগুলোর কারনে টলি গাড়ি চলার কারণে রাস্তাঘাট ভেঙ্গে গেছে। আমাগো কথাবার্তা তারা মানে না। মাটি কাটার কারনে ইউনিয়নটাই নষ্ট হয়ে গেছে। ক্ষেতের ফসলগুলো বাজারে নিতে পারি না রাস্তা খারাপ হওয়ার কারণে।
৭০ বছরের বৃদ্ধ আওলাদ হোসেন। বাবার দেখানো পেশা কৃষি কাজের উপর নির্ভরশীল। পরিবারের হাল ধরার মতো কোনো ছেলে না থাকায় নিজেই কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, এই ইট খোলার মালিকরা ভালো জমি কাইটা মাটি নিয়ে যাওয়ার কারণে আমাগো রাস্তার অনেক সমস্যা । আর ফসললো আগের মত হয় না। আগে যে জমিতে আমরা ৫ মন ফসল পাইতাম এহল ওই জমিতে দুই থাইকা তিন মন পাই। আমাগো অনেক সমস্যা । এই ইটখোলা বন্ধ হলে আমাগো অনেক ভালো হয়।বাপু আমরা গরীব মানুষ আপরা প্রতিবাদও করবার পারি না। ঘরের টিনগুলোও নষ্ট হয়ে যাইতাছে। গাছে ফল ধরে না।
ইউনিয়নের চরমগড়া গ্রামের আজগোর আলী জাগো নিউজকে বলেন, এই ইটভাটার কারনে রাস্তার অনেক ক্ষতি হইয়া যাইতেছে। ধূলাবালির কারনে ঘরের টিনগুলোও নষ্ট হয়ে যাইতেছে। চকে ফলন হয়না। চকের মাটি কাইটা নিয়া যায়। আমরা খুব অসুবিধার মধ্যে আছি।

এ বিষয়ে সিংগাইর ইট ভাটার মালিক সমিতির সভাপতি ইলিয়াস হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের ইটভাটা যে ছিবনি আছে সেগুলোকে জিকজ্যাক ছিবনি বলা হয়। এই জিনিসগুলোর নিচে পানি দেওয়া থাকে সেই পানিতে ইট পোড়ানোর যে ধোঁয়া সেই ধোঁয়া ফিল্টার হয়ে বের হয় সেই কারনে ফসলের কোন ক্ষতি হয় না। আর আমরা ইট তৈরির জন্য যে মাটি ব্যবহার করি সেগুলো এক ফসলি জমির মাটি। তাছাড়া এগুলো বেশিরভাগ ইট ভাটার মালিকদের নিজেদের জমি।
বলধারা ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আফজাল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ইট ভাটার কারনে এই ইউনিয়নের ফসলের মাঠে তুলনা মূলক ভাবে ফলন কম হয়। ইট ভাটার ধোঁয়া যে ফসলে লাগে সেই ফসলের ক্ষতি হয়। মোট কথা ইট ভাটার কারনে চার ভাগের এক ভাগ ফসল কম পায় কৃষক।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন জাগো নিউজকে বলেন, এই ডাটাগুলো একদিনে গড়ে উঠে নাই বিভিন্ন সময়ে গড়ে উঠেছে। একটি ইউনিয়নে কি পরিমান ইট ভাটা থাকা প্রয়োজন এটার কোন লিমিট নাই। পরিবেশ অধিদপ্তর সে নিয়মনীতি রয়েছে সেগুলো দেখেই ছাড়পত্র দিয়েছে। একটি ইটভাটা থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড এবং সালফার ডাই অক্সাইড নির্গত হয়। ইট ভাটা যতো কম থাকবে পরিবেশ ততোটাই ভালো থাকবে। বেশি ইট ভাটা থাকলে অবশ্যই পরিবেশের ক্ষতি হবে। এছাড়াও এই ইট ভাটার ধোঁয়ার কারণে যদি বায়ু দূষণ হয় মানুষের ফুসফুস জনিত যে রোগ সেই রোগে মানুষ আক্রান্ত হবে এটাই আমাদের ধারণা।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ