রবিবার

১৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২রা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে স্কুল শিক্ষকের বাড়িতে হামলা ও লুটপাট: আতঙ্কে এলাকাবাসী, ২০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি

🕙 প্রকাশিত : ২ ডিসেম্বর, ২০২৫ । ১২:১২ অপরাহ্ণ

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার জিয়ানপুর এলাকায় এক মাধ্যমিক স্কুল শিক্ষকের বাড়িতে প্রকাশ্যে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (৩০ নভেম্বর) সকাল ৯ টায় এ ঘটনা ঘটে। পুনরায় হামলা ও ভাঙচুরের আশঙ্কায় এ ঘটনা তাৎক্ষনিক জানাতে সাহস করেনি পরিবারটি।

পরে, স্কুল শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বাদি হয়ে হামলাকারী লাদেন, সানোয়ার, আনোয়ার, রাজু, মুরাদ, আমীর, জাকিরুল, শাহীদা, বৃষ্টি, হালিমসহ অজ্ঞাত ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে দৌলতপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন।

স্কুল শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমার বাড়িতে ২০–৩০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হঠাৎ আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করেছে। আমার সাথে এমনিতে কারও শত্রুতা নেই। হামলা থেকে বাঁচতে আমি ঘরের এক কোণে লুকিয়ে পড়ি। হামলাকারীরা বাড়ির জিনিসপত্র ও খাদ্যদ্রব্য ছড়িয়ে ছিটিয়ে নষ্ট করে ফেলে এবং স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এসময় তারা প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছে।

থানার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত হামলাকারীরাসহ আরও ২৫ জনের একটি দল ঐ স্কুল শিক্ষকের বাড়িতে হামলা করে মারধর ও মালামাল লুট করে। এসময়, ঘরে থাকা দেড় লক্ষটাকা মূল্যমানের স্বর্ণের চেইন ও আনুমানিক ১০ লক্ষ টাকা মূল্যমানের অন্যান্য গহনা, নগদ ৮ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা, একটি ২০ হাজার টাকা মূল্যমানের স্মার্টফোন লুট করে তারা। যাওয়ার সময় ৫০ হাজার টাকা মূল্যমানের একটি ল্যাপটপ ভেঙে ফেলে ও ৫ মণ ওজনের ধান নিয়ে যায় যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৭ হাজার টাকা। এসময় তারা আরও ৫ বস্তা ধান ছড়িয়ে ছিটিয়ে নষ্ট করে।

হামলার শিকার পরিবার আশঙ্কা করে জানান, দীর্ঘদিন ধরে ৪৩ শতাংশ জমি নিয়ে এক পক্ষের সাথে তাদের বিরোধ চলছে। এ নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হলে হাইকোর্ট তাদের পক্ষে রায় দিয়েছেন। স্থানীয়ভাবে চেয়ারম্যানসহ এলাকার মান্যগণ্য ব্যক্তিবর্গও তাদের পক্ষেই রায় দিয়েছেন। হয়তো ঐ মহল এটাকে না মেনে ঈর্ষান্বিত হয়ে এ হামলা চালাতে পারে।

এলাকাবাসীরা জানান, এ হামলার ঘটনায় শুধু ওই পরিবার নয়, পুরো এলাকাই আতঙ্কে রয়েছে। দিনে-দুপুরে এমন বেপরোয়া হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় স্থানীয়রা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিনুল আলম বলেন, “অফিসার গিয়েছিলো। ঘটনার বিস্তারিত দেখে এসেছে। হামলার শিকাররা একটি অভিযোগ দিয়েছেন যার পরিপ্রেক্ষিতে একটি মামলা রজু হয়েছে। আইনগত বিচার প্রক্রিয়াধীন”।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ