জাতীয় সংসদে কাগজ দেখে পুরো বক্তব্য পাঠ করা অনুমোদিত নয় বলে জানিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি সংসদ সদস্যদের নোট দেখে ধারণা নিয়ে সরাসরি সংসদের দিকে তাকিয়ে বক্তব্য দেওয়ার অভ্যাস করার আহ্বান জানান।
রোববার (১৫ মার্চ) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিতে গিয়ে জামায়াতের সংসদ সদস্য মাসুদ বিন সাঈদী ও ইসলামী আন্দোলনের সংসদ সদস্য অলি উল্লাহ কাগজ দেখে বক্তব্য পাঠ করলে স্পিকার এ মন্তব্য করেন।
স্পিকার মাসুদ বিন সাঈদীকে উদ্দেশ করে বলেন, সংসদে দেখে দেখে পড়া অনুমোদিত নয়। নোট দেখে বক্তব্য দেওয়া যেতে পারে, তবে সংসদের দিকে তাকিয়ে বক্তব্য রাখতে হবে—এটাই সংসদের প্রচলিত রেওয়াজ।
পরে ইসলামী আন্দোলনের সংসদ সদস্য অলি উল্লাহ বক্তব্য দেওয়ার সময়ও একই মন্তব্য করেন স্পিকার। তিনি বলেন, সংসদে না দেখে বক্তব্য দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত এবং সংসদের কার্যপ্রণালীর নিয়ম সবাইকে মেনে চলতে হবে। কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী লিখিত বক্তব্য পাঠ করতে হলে স্পিকারের পূর্বানুমতি নেওয়ার বিধান রয়েছে বলেও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।
এর আগে পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ বিন সাঈদী তার বক্তব্যে বলেন, পিরোজপুরের মানুষ নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে তাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, সেই আমানতের মর্যাদা তিনি আজীবন রক্ষা করবেন। তিনি তার বাবা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর আদর্শ অনুসরণ করে এলাকায় উন্নয়ন ও দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
বক্তব্যে তিনি ভাষা আন্দোলন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করেন। শিক্ষা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করতে হবে।
মাসুদ বিন সাঈদী দাবি করেন, গত ১৫ বছরে সড়ক ও জনপথ বিভাগে প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকার অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। তিনি সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও শুল্কমুক্ত গাড়ি ব্যবহারের সংস্কৃতি পরিহারের আহ্বান জানান।
এ সময় তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ায় জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। বিএনপি গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের পক্ষে থাকবে কি না—এ প্রশ্ন এখন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের একটি বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন মাসুদ বিন সাঈদী। তিনি বলেন, “জুলাই কেবল আবেগ নয়, এটি বাস্তবতাও।” তাই এ বিষয়টিকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই।
এছাড়া তিনি বলেন, সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সব অধ্যাদেশই আইন হিসেবে গণ্য হয়। এ বিষয়ে দায়িত্বশীল বক্তব্য দেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

