সোমবার

১৩ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩০শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শ্যামলীর সিকেডি হাসপাতালে চাঁদাবাজি: মূলহোতা মঈনসহ ৭ জন গ্রেপ্তার

🕙 প্রকাশিত : ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ । ৫:৪৯ পূর্বাহ্ণ

রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতালে চাঁদাবাজি ও চিকিৎসক হেনস্তার ঘটনায় মূলহোতা মঈন উদ্দিনসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, চাঞ্চল্যকর এ মামলার প্রধান অভিযুক্ত মঈনসহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

রোববার দিবাগত রাতে নড়াইল ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। র‍্যাব সূত্র জানায়, মামলার মূলহোতা মঈন উদ্দিনকে নড়াইলের কালিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া অন্যদের মধ্যে রয়েছেন মো. ফালান মিয়া (৪২), মো. রুবেল (৪২), মো. স্বপন কাজী (৩৬) ও মো. শাওন হোসেন (২৫)।

ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক যুবদল নেতা মঈন উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি হাসপাতালে প্রবেশ করে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তারা হাসপাতালের কর্মকর্তাদের হুমকি দেন এবং নিয়ম ভেঙে জোরপূর্বক অপারেশন থিয়েটারে প্রবেশ করেন।

এ সময় ওটি ইনচার্জ আবু হানিফকে শারীরিকভাবে হেনস্তার ঘটনাও ঘটে। পরদিন শনিবার শেরেবাংলা নগর থানায় মঈনকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাত আরও ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। ওটি ইনচার্জ আবু হানিফ নিজেই মামলার বাদী।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই অভিযুক্ত মঈন উদ্দিন বিভিন্নভাবে হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলামকে চাপ দিয়ে আসছিলেন। তিনি জোরপূর্বক হাসপাতালের জন্য বিভিন্ন সরঞ্জাম ও পণ্য সরবরাহের চেষ্টা করেন এবং কয়েক দফায় পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

এছাড়া, হাসপাতালের কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নিয়মিত লোকজন নিয়ে মহড়া দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ডা. কামরুল ইসলাম জানান, পূর্বে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের সহায়তা চাইলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ পাননি।

র‍্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। একইসঙ্গে চিকিৎসাসেবায় বাধা সৃষ্টি বা চিকিৎসকদের ওপর চাপ প্রয়োগের মতো ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ