মঙ্গলবার

১০ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৭শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে নৌযান চলাচলেও কড়াকড়ি

🕙 প্রকাশিত : ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ৭:৩৬ পূর্বাহ্ণ

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের দিন এবং এর আগে-পরে লঞ্চ ও ইঞ্জিনচালিত বোটসহ বেশ কিছু নৌযান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
ইসির নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখার উপ-সচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিশেষ নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত অর্থাৎ মোট ২৪ ঘণ্টা এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে। মূলত নদীমাতৃক এলাকাগুলোতে নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অবৈধ যাতায়াত রুখতে এই আগাম সতর্কতা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে সাধারণ জনজীবন সচল রাখতে নির্দিষ্ট রুটে চলাচলকারী যাত্রীবাহী লঞ্চ এবং দূরপাল্লার নৌযানগুলো এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই নিষেধাজ্ঞা সবার জন্য ঢালাওভাবে প্রযোজ্য হবে না। রিটার্নিং অফিসারের পূর্বানুমতি সাপেক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাঁদের নির্বাচনী এজেন্ট, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত পরিচয়পত্রধারী সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম শিথিলযোগ্য হবে।
এ ছাড়া নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের চলাচলে কোনো বাধা থাকবে না। একই সাথে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ডাক ও টেলিযোগাযোগসহ বিভিন্ন জরুরি সেবায় নিয়োজিত নৌযানগুলো এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। প্রধান প্রধান নৌপথে বন্দর কার্যক্রম এবং জরুরি পণ্য পরিবহনের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন অনুযায়ী এই নিয়ম শিথিল করার ক্ষমতা রাখবে।
ইসির নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, স্থানীয় বাস্তবতা ও বিশেষ প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনাররা চাইলে আরও কিছু নৌযানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ অথবা শিথিল করতে পারবেন।
ভোটারদের যাতায়াত এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয় এমন ছোট নৌযানগুলোর ক্ষেত্রে কমিশন কিছুটা নমনীয় থাকার ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে নির্বাচনী এলাকার বাইরে থেকে বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে নৌপথের প্রবেশ মুখগুলোতে কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন বিকেল পর্যন্ত নদীপথে টহল দেবে কোস্ট গার্ড ও নৌ-পুলিশের বিশেষ দল।
নদীবেষ্টিত নির্বাচনী এলাকাগুলোতে এই নির্দেশনার ফলে নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নির্দেশ অমান্য করে কোনো ইঞ্জিনচালিত বোট বা অবৈধ নৌযান চলাচল করলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নির্বাচন কমিশন মনে করে, সড়কপথের পাশাপাশি নৌপথের এই নিয়ন্ত্রণ একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। এই সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশনার অনুলিপি ইতোমধ্যে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছে।

ইত্তেফাক/টেলিগ্রাম

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ