মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার ধলেশ্বরী নদীর পাশে অত্যন্ত সুন্দও মনোরম পরিবেশে নিজস্ব জমিতে ২০০১ সালে প্রথম দিকে তিন তালা বিশিষ্ট ঘিওর প্রাণি সম্পদ ও ভেটেরিনারি হাসপাতালটি নির্মান করা হয়। এলাকার অসহায় দরিদ্র কৃষকেরা এখানে গরু , ছাগল, হাঁস মুরগী ও পোল্টি মুরগি ও বিভিন্ন খামারিরা শুষ্ট চিকিৎসা সেবা ও বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ পেত। কিন্তু দুঃখ জনক হলেও সত্য, বর্তমানে ভেটেরিনারি হাসপাতালটির বেহাল অবস্থা। প্রয়োজনীয়, ওষুধ এবং পশুর চিকিৎসা না থাকায় এলাকার শত শত লোকজন গরু, ছাগল, ঘোড়া মহিষ পোলট্রি খামারিদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
জানা গেছে, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের জন্য একটি ভেটেরিনারি হাসপাতাল। প্রতিদিন গড়ে-অর্ধ শতাধিক গবাদিপশু, হাসমুরগী এবং গরু, মহিষ,হাঁস, মুরগী খামারীরা চিকিৎসার ও পরামর্শের জন্য এখানে আসেন। গবাদি পশু চিকিৎসার জন্য এনে নানা ধরনের বিরম্বনার শিকার হচ্ছে। অনেকে চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে। অবিশ^াস্য হলেও সত্য, অফিসের কম্পাউন্ডার দিয়ে সকল প্রকার চিকিৎসা জটিল, কঠিন রোগে আক্রান্ত গবাধি পশুর চিকিৎসা দেওয়া হয়। আর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা অধিকাংশ সময়ে বিভিন্ন মিটিং ,সভা, সেমিনার নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকেন। কাজেই তার পক্ষে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব নয়। তবে অফিসে ৮জন কর্মকর্তা কর্মচারী কর্মরত আছেন। এর মধ্যে উপ-সহকারী প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা (এলডিডিপি) ভ্যাটেনারি ফিল্ড এসিস্ট্যান্ট (ভি,এফ এ)২ জন, ফিল্ড এসিস্ট্যান্ট কৃত্রিম প্রজন ১জন, কম্পাউন্ডার ১জন, এফ এফ ১জন, সিএই ১জনও ড্রেচার ১জন কর্মরত আছেন। এক বছর আগে ভেটেরিনারি সার্জন অন্যত্র চলে গেলে এই গুরত্বপূর্ন পদটি খালি হয়ে যায়। ভেটেরিনারি সার্জন এবং উপ-সহকারী প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা (প্রাণিস্বাস্থ্য) না থাকায় সঠিক রোগ নির্নয় করতে পারেনা গরুর মালিক। খামারী ও গবাদি পশু পালনকারীদের চরম অসুবিধা হচ্ছে। পোল্টি খামারে বার্ডফ্লু, রানী ক্ষেতসহ বিভিন্ন রাগে আক্রান্ত হচ্ছে। এদিকে চলতি বছরে ঘিওরে গরুর ল্যাম্পি স্কিন ভাইরাস রোগে অনেক গরু চিকিৎসার অভাবে মারা গেছে। বিভিন্ন গ্রামের কোয়াক চিকিৎসক দিয়ে তারা চিকিৎসা করান। কোন রকম প্রশিক্ষন নিয়ে তারা গোবাদি পশুর চিকিৎসার নামে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে ৪৮০০ হাজার গবাদি পশুকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। রেজিঃকৃত গাভির খামারি ১২টি। ১টি আদর্শ খামার আছে। প্রতিদিন গড়ে ৪০/৫০জন গবাদি পশুর চিকিৎসার জন্য কৃষকেরা নিয়ে আসেন। অফিস চলাকালিন সময়ে চিকিৎসক না থাকায় হাতুরে (কোয়াক) চিকিৎসকের শরানাপন্ন হওয়ায় চিকিৎসা ব্যয় গুণতে হয় দ্বিগুন হারে। পশুর রোগ বালাই ও অনেক ক্ষেত্রে পুরো নিরাময় হয়না। গুরুত্বপূর্ন এই হাসপাতালে সেবার মান ভেঙ্গে পরেছে।
সেবা নিতে আসা জলিল, কোরবান,জরিনা খাতুন মাসুমসহ অনেক লোকজন বলেন, ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে থেকেও ডাক্তার পাওয়া যায় না। হাসপাতাল থেকে নাম মাত্র ওষুধ দেওয়া হয়। সমস্ত ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়। তবে সরকারি মূল্যে কৃত্রিম প্রজনন (হিমায়িত) বীজ ৭৫ টাকা, কৃত্রিম প্রজনন (তরল) ৫০ টাকা । কিন্তু গবাদি পশুর মালিকদের কাছ থেকে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। এ ছাড়া গলা ফুলা ১ টাকা, বাদলা ২টাকা, তরকা ৮০ পয়সা,ফাইল পক্স ২৫ পয়সা, পিজিওন পক্স ২৫ পয়সা, ডাকপ্লেগ ৫০ পয়সা,এফ এম ডি ২৫ টাকা, জলাতঙ্ক ৫০ টাকা নেওয়ার নিয়োম থাকলেও তা মানা হচ্ছে না।
ফিল্ড লাইফস্টক এসিসট্যোন্ট এবং ভেটেনারি ফিল্ড এসিস্ট্যান্টরা অধিকাংশ সময়ে অনুপস্থিত থাকেন। অনেক সময়ে হাজিরা খাতায় সহি করে চলে যান। এ ছাড়া প্রকল্প উপরে ভিত্তি করে ১৫ জন কর্মরত আছেন। তারাও ঠিকমত অফিস করেন না। কৃত্রিম প্রজনন দায়িত্বে থাকা,উপ-সহকারী প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা (এআই) তিনি অধিকাংশ সময়ে অনুপুস্থিত থাকেন। কম্পাউন্ডার অফিস চলাকালিন সময়ে প্রাইভেট চিকিৎসা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে অফিস সূত্র জানায়, ২০২৪/২৫ অর্থ বছরে মেডিকেল ক্যাম্প করা হয়েছে ৪টি। ২৪জনকে ২টি করে ছাগল, ২৬ জনকে ২করে ভেড়া ২১জনকে হাঁস ও ২৫জনকে মুরগী দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ২৪/২৫ অর্থ বছরে ঠাকুরকান্দিসহ বিভিন্ন গ্রামে ১৪২জন উপকার ভোগিকে মুরগীর ঘড় নির্মানের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতিটি ঘড়ে কত টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তার সঠিক তথ্য অফিসে নেই। উপরোক্ত স্যারেরা এগুলো সব নিয়ন্ত্রন করেন।
সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা গেছে, ঘিওর প্রাণি সম্পদ অফিসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় না। সরকারি অফিস সকাল ০৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আদেশ থাকলেও তা মানা হচ্ছেনা। কিন্তু প্রাণী সম্পদ অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অধিকাংশ সময়ে সরকারি নিয়মনীতি অমান্য করে ইচ্ছামত অফিস করেন। অনেক কর্মকর্তা হাজিরা খাতায় সহি করে চলে যায় ।
ঘিওর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ পার্বতী পাল বলেন, আমার অফিসে কোন ধরনের অনিয়ম নেই। সবাই ঠিকমত দায়িত্ব পালন করেন। বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ উপরোক্ত অফিসাররা দেখভাল করেন। আমার কাছে কোন ধরনের তথ্য নেই।
জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মজিবর রহমান বলেন, আমরা শুধু উপকার ভোগিদের নাম যাচাই বাছাই করি। উপরোক্ত স্যারেরা সব প্রকল্প দেখাশুনা করেন। মুরগি পালনের ঘরের টাকা উপকার ভোগিদের বিকাশে যথাসময়ে চলে আসে। আমাদের কোন হাত নেই। অফিসের কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
ঘিওর প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল বেহাল অবস্থা এলাকার লোকজন দুর্ভোগ চরমে
🕙 প্রকাশিত : ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ৬:০৬ পূর্বাহ্ণ

