মঙ্গলবার

১০ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৭শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গ্রামের দোরগোড়ায় আধুনিক চিকিৎসা, সাটুরিয়ায় শুরু হলো নতুন স্বাস্থ্যসেবার অধ্যায়

🕙 প্রকাশিত : ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ১১:১৩ পূর্বাহ্ণ

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার দড়গ্রাম ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরেই মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার অভাবে ভুগছিল। সামান্য অসুস্থতা কিংবা জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে এলাকাবাসীকে ছুটতে হতো উপজেলা সদর কিংবা জেলা শহরে। এতে একদিকে যেমন বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয় হতো, অন্যদিকে জরুরি মুহূর্তে চিকিৎসা পেতে দেরি হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হতো। সেই বাস্তবতায় দড়গ্রাম বাজার এলাকায় এ রহমান ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার এন্ড হাসপাতাল চালু হওয়াকে এলাকাবাসী দেখছেন স্বাস্থ্যসেবায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা হিসেবে।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটির উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক উপ-পরিচালক আলহাজ্ব ডা. সাইফুদ্দিন আহম্মেদ চৌধুরী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাটুরিয়া উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা সাঈদ বিএসসি, দড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলিনুর বকস রতনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সমাজকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশের প্রান্তিক ও গ্রামাঞ্চলে আধুনিক ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া এখন সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগে এমন স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ে ওঠা গ্রামীণ জনপদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এই কেন্দ্র চালু হওয়ার ফলে দড়গ্রামসহ আশপাশের এলাকার সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমবে এবং স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ আরও সহজ ও গতিশীল হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এ রহমান ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার এন্ড হাসপাতালের মাধ্যমে আধুনিক যন্ত্রপাতির সহায়তায় রোগ নির্ণয়, প্রাথমিক ও জরুরি চিকিৎসা, মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহসহ বিভিন্ন মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হবে। পর্যায়ক্রমে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা ও আরও উন্নত চিকিৎসা সুবিধা যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এতদিন চিকিৎসার জন্য দূরবর্তী হাসপাতালে যেতে গিয়ে তারা নানা ভোগান্তির শিকার হতেন। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্ক রোগীদের জন্য এই যাতায়াত ছিল কষ্টসাধ্য। নতুন এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু হওয়ায় তারা এখন ঘরের কাছেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাবেন বলে আশা করছেন।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ