বৃহস্পতিবার

১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঘন কুয়াশায় সড়ক ও নৌপথে বাড়ছে দুর্ঘটনা

🕙 প্রকাশিত : ৪ জানুয়ারি, ২০২৬ । ৬:৩০ পূর্বাহ্ণ

স্ট্রোক করে মাসখানেক ধরে যশোরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন মিজানুর রহমান। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নিয়ে আসছিলেন স্ত্রী নীলা ও শ্যালক নিশান। অ্যাম্বুলেন্সটি ফরিদপুরের ভাঙ্গায় পৌঁছালে কুয়াশার কারণে ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিন জনই। এ সময় আহত হন চালকসহ দুজন। গত শনিবার সকাল ৭টার দিকে ঢাকা-ভাঙ্গা-খুলনা মহাসড়কের মনসুরাবাদ নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশ জানিয়েছে, সড়কে ঘন কুয়াশার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়াও ঘন কুয়াশার কবলে পড়ে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনের একটি ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। শুক্রবার রাত পৌনে ১টার দিকে ঘটা ঐ দুর্ঘটনায় বাসের ছয় যাত্রী আহত হয়েছেন। পরে ফায়ার সার্ভিস গিয়ে বাসের প্রায় অর্ধশত যাত্রীকে উদ্ধার করে।
ফগ লাইট ব্যবহার করুন :বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক (সদর) এ এস এম আহম্মেদ খোকন জানিয়েছেন, অতিরিক্ত কুয়াশা আসলে প্রাকৃতিক বিষয়। তবে সবার আগে আমাদের চালক ও যাত্রীদের সচেতনতাকে প্রাধান্য দেব আমি। যথাযথ লেন ও নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখা এবং সড়ক পরিবহন আইন মেনে গাড়ি চালানো, মহাসড়কে নিষিদ্ধ এবং ফিটনেসবিহীন গাড়ি না চালানো, অতিরিক্ত কুয়াশায় গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে অবশ্যই ধৈর্য রাখা, সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা এবং অতিরিক্ত গতি পরিহারের বিকল্প নেই। এ পরিবহন নেতা জানান, মালিক সমিতির পক্ষ থেকে চালকদের বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিরাপদ থাকতে গাড়ির গতি কমিয়ে আনা, লো-বিম হেডলাইট ও ফগ লাইট ব্যবহার, হাই-বিম এড়িয়ে চলা, সামনের গাড়ি থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং অতিরিক্ত কুয়াশা হলে রাস্তার পাশে নিরাপদে থেমে যাওয়া। কুয়াশা কেটে গেলে গাড়ি চলাচল।
এক্সপ্রেসওয়ের চার স্থানে দুর্ঘটনা, আহত ৩০ : ঘন কুয়াশায় ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের চারটি স্থানে পৃথক দুর্ঘটনায় অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর ও লৌহজং এবং মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় গতকাল বৃহস্পতিবার রাত থেকে গতকাল শুক্রবার সকালে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। যানবাহন চালকদের মধ্যে সতর্কতার অভাব, ঘন কুয়াশা ও যানবাহনের দ্রুতগতির কারণে এসব দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে এক্সপ্রেসওয়েতে ঘন কুয়াশা দেখা দেয়। রাতে ঢাকা থেকে সাদ আবদুল্লাহ পরিবহনের একটি বাস পদ্মা সেতুর দিকে যাচ্ছিল। একই লেনে যাচ্ছিল গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি বাস। গোল্ডেন লাইন পরিবহনের বাসটি রাত পৌনে ৯টার দিকে শ্রীনগরের বেজগাঁও বাসস্ট্যান্ডে এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে সাদ আবদুল্লাহ পরিবহনের বাসটি সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে দুটি বাসের অন্তত ৯ জন যাত্রী আহত হন। দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে এক্সপ্রেসওয়ের ছনবাড়ী এলাকায় দুটি ট্রাক ও একটি বাসের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়। শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিস জানায়, মামুন পরিবহনের একটি বাস ছনবাড়ী সেতুর ওপর উঠছিল। কুয়াশার কারণে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একই লেনে একটি মালবাহী ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয়। এ সময় পেছন থেকে আসা দ্রুতগতির একটি ট্রাক বাসটির পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটির সামনের ও পেছনের অংশ দুমড়েমুচড়ে গিয়ে অন্তত ১০ জন যাত্রী আহত হন। এ ছাড়া গতকাল ভোর সোয়া ৫টার সময় লৌহজং উপজেলায় এক্সপ্রেসওয়ের দোগাগাছি এলাকায় মাওয়ামুখী একটি ট্রাকের পেছনে কাভার্ড ভ্যান ধাক্কা দেয়। এতে ট্রাকে থাকা এক ব্যক্তি আহত হন। এদিকে এক্সপ্রেসওয়ের শিবচরের বন্দরখোলা এলাকায় গতকাল সকাল সাড়ে ৮টার দিকে যাত্রীবাহী বাস, পিকআপ ভ্যান ও কাভার্ড ভ্যানের ত্রিমুখী সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
নৌপথে ভোগান্তি : গত শনিবার বগুড়া থেকে জামালপুরমুখী বরযাত্রীবাহী একটি নৌকা ঘন কুয়াশার কবলে পড়ে যমুনা নদীর মাঝপথে গিয়ে দিক হারিয়ে ফেলে। পরে সারা রাত নদীতে আটকে থেকে শিশুসহ ৪৭ জন অবশেষে বাড়ি ফিরেছেন। এর আগে শুক্রবার রাতেই ঘন কুয়াশার কারণে পথ ভুলে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পদ্মার নদীর দৌলতদিয়া অংশের চরে শতাধিক যাত্রীসহ আটকে পড়ে একটি লঞ্চ। পরে যাত্রীদের মধ্য থেকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ এ কল দিলে দৌলতদিয়া ঘাট নৌ-পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। অন্যদিকে জলপথে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ায় পদ্মা নদীতে ঘন কুয়াশার কারণে দীর্ঘ ১৫ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। এ ছাড়া শরীয়তপুর-চাঁদপুর নৌরুটেও ঘনকুয়াশার কারণে সাড়ে ৮ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর স্বাভাবিক হয় ফেরি চলাচল।
আগামী পাঁচ দিন থাকবে কুয়াশার দাপট : আগামী পাঁচ দিন দেশের আবহাওয়ায় কুয়াশা ও শীতের প্রভাব অব্যাহত থাকতে পারে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশের অনেক জায়গায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এতে সড়ক, নৌ ও আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব আরো বিস্তৃত হতে পারে এবং আগামী দিনগুলোতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা আরো কমার আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
যা বলছে হাইওয়ে পুলিশ : কুয়াশায় দুর্ঘটনা এড়ানোর বিষয়ে হাইওয়ে হাসারা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এ টিম এম মাহমুদুল হক জানিয়েছেন, কুয়াশার মধ্যে চালকদের প্রয়োজনীয় কঠোরভাবে নিয়ম মেনে চলতে হবে। বিশেষ প্রয়োজন ব্যতীত হাইওয়েতে মোটরসাইকেল না চালানোর জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করব। এগুলো মেনে চললে আশা করি, দুর্ঘটনা কিছুটা এড়ানো সম্ভব। তিনি বলেন, সচেতনতার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে প্রতিদিন মাইকিং করা হচ্ছে।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ